উত্তরণের পথে
এই টুলু খেলা করছিস,স্কুলে যাসনি আজ? না দিদি পাশের বাড়িতে নেমন্তন্ন আছে যে। আজ অনুষ্ঠান? কীসের? কৌতুহল বশত পা বাড়ালাম দত্ত বাড়ির দিকে। বাড়ি ঢুকেই দেখলাম উঠোনে ছাদনাতলা। আত্মীয় স্বজনে বাড়ি ভর্তি। তা হলে বিয়ে বাড়ি! কার বিয়ে! একটা ঘর থেকে বেরিয়ে এলো টুম্পা। নাইনে পড়ে। পরনে হলদে শাড়ি। আমার বুঝতে আর কিছু বাকি থাকলো না। মুহুর্তের মধ্যে সতেরো বছর আগের স্মৃতি চোখের সামনে ভেসে উঠল। টুম্পাকে কিছু না বলে আমি ওর বাবা মাকে একটা ঘরে ডেকে নিলাম। কয়েকজন আত্মীয় স্বজনও ভিড় করল। এত কম বয়সে বিয়েটা না দেবার জন্য অনুরোধ করলাম।
বিফল হয়ে বাইরে এসে ফোনটা করেই ফেললাম। এরপর যা করার প্রশাসন করবে।
মে মাসের মস্ত দুপুর গড়িয়ে কখন যে সন্ধে নেমেছে আজ টের পাইনি। দরজায় পায়ের শব্দে ঘোর কাটলে পিছন ফিরে দেখি টুম্পা আর ওর মা পর্দা সরিয়ে ঘরে ঢুকছে। বুঝলাম বিয়েটা হয়নি। আমি টুম্পার মায়ের কটু কথা শোনার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করলাম। ছুটে এসে ওর মা আমার হাত দুটো জড়িয়ে ধরে কেঁদে বলল- আপনার জন্য আমার মেয়েটা বেঁচে গেল দিদিমণি। মনে পড়ে গেল সে দিন স্কুলের লীলা দিদিমনিও আমার বিয়েটা না আটকালে আজ কেন্দুয়াডিহি গ্রামের স্কুলটার দিদিমনি হয়ে আসা আমারও হতো না।
No comments:
Post a Comment