Sunday, January 20, 2019


নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী সংক্ষিপ্ত জীবনী


বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে আবির্ভূত বাঙালি কবিদের মধ্যে অন্যতম নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী  । তিনি ১৯২৪ সালের ১৯শে অক্টোবর বাংলাদেশের ফরিদপুরের চান্দা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ।  তাঁর পিতা জিতেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী ও মাতা প্রফুল্লনলিনী দেবী । কৈশোর ও শৈশব বাংলাদেশে কাটানোর পর তিনি ১৯৩০ সালে কোলকাতায় আসেন ।
কোলকাতায় স্নাতক উত্তীর্ণ করার পর ১৯৫১ সালে তিনি যোগ দেন আনন্দবাজার পত্রিকায় । দীর্ঘ সময় তিনি আনন্দমেলা পত্রিকার সম্পাদনার সাথে যুক্ত ছিলেন ।  

তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘নীল নির্জন’ প্রকাশিত হয় ১৯৫৪ সালে । এরপর তিনি একাধিক কাব্যগ্রন্থ রচনা করেন তার মধ্যে বিশেষ উল্লেখ্য – অন্ধকার বারান্দা (১৯৬১), নীরক্ত করবী (১৯৬৫), কোলকাতার যীশু (১৯৬৯), উলঙ্গ রাজা (১৯৭১), কবিতার বদলে কবিতা (১৯৭৬), পাগলা ঘন্টি (১৯৮১), যাবতীয় ভালোবাসাবাসি (১৯৮৯), চল্লিশের দিনগুলি (১৯৯৪), সত্য সেলুকাস (১৯৯৫), দেখা হবে (২০০২), অনন্ত গোধূলিবেলা (২০০৮) ইত্যাদি ।
কবিতা রচনার পাশাপাশি কবিতা বিষয়ক একাধিক আলচনাধর্মী গ্রন্থ রচনা করেছেন যা পাঠক সমাজে বিপুল ভাবে সমাদৃত হয় । উল্লেখ্য – কবিতার ক্লাস (১৯৭০), কবিতার কি ও কেন (১৯৮২) প্রভৃতি । ১৯৬১ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর কাব্যনাটক ‘প্রথম নায়ক’(১৯৬১) ।
একাধিক ছোটগল্প ও উপন্যাস রচনার মধ্য দিয়ে তিনি গদ্যসাহিত্যেও উজ্জ্বলতার সাক্ষর রাখেন । তাঁর সৃষ্ট গোয়েন্দা চরিত্র চারুচন্দ্র ভাদুরী ওরফে ভাদুরী মশাই বিশেষ জনপ্রিয়তা লাভ করে ।  এই চরিত্রকে নিয়ে তিনি ‘বিষানগড়ের সোনা’, ‘পাহাড়ি বিছে’, ‘কামিনির কণ্ঠহার’, ‘ভোর রাতের আর্তনাদ’, ‘আংটি রহস্য’, ‘বিগ্রহের চোখ’  প্রভৃতি রহস্য কাহিনী রচনা করেন ।  

কবি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী একাধিক পুরস্কার ও সম্মানে বিভূষিত হয়েছেন ।  ১৯৫৮ সালে পেয়েছেন ‘উল্টোরথ পুরস্কার’, ১৯৭০ সালে ‘তারাশঙ্কর পুরস্কার’ সহ ১৯৭৪ সালে ‘সাহিত্য আকাদেমি’ এবং ১৯৯৬ সালে ‘আনন্দ পুরস্কার’ লাভ করেন ।  ২০০৭ সালে তাঁকে কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ডি লিট উপাধি প্রদান করে সম্মানিত করে  এছাড়াও পশ্চিমবঙ্গ সরকার তাঁকে  ‘বঙ্গবিভূষণ’ সম্মানে সম্মানিত করে ।  বহুদিন তিনি পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমির সভাপতির পদ অলঙ্কৃত করেন ।



২০১৮ সালের ২৫শে ডিসেম্বর কোলকাতায় কবি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী পরলোক গমন করেন ।

No comments:

Post a Comment