Tuesday, June 29, 2021
অচিনপাখি । জুন সংখ্যা
Monday, June 28, 2021
সম্পাদকীয়
বঙ্গে এসেছে বর্ষা । আষাঢ়ের প্রথম দিবসেই কালো মেঘের ঘনঘটা । বর্ষা সাথে করে যে ভরসার কথা নিয়ে এসেছে তা হল মহামারীর প্রভাব ক্রমশ নিম্নমুখী হওয়া । করোনার সংক্রমণ বা মৃত্যুর হার বিগত কয়েকদিনে হ্রাস পেতে শুরু করেছে । দুঃসময় কাটিয়ে আমাদের পৃথিবী সুস্থ হয়ে উঠবে- যে বিশ্বাস আমাদের প্রতিনিয়ত ভরসা জুগিয়েছে সেই বিশ্বাসেরই প্রতিষ্ঠা দৃঢ় হচ্ছে । নতুন আশা নিয়ে, নতুন অঙ্গীকার নিয়ে স্বাভাবিক জীবনের পথে ফিরে আসছে সভ্যতা ।
অচিনপাখি ডিজিটালের পক্ষ থেকে ব্লগ সংখ্যা জুন, ২০২১, নবম বর্ষ প্রকাশ করা হল । প্রতিবারের মতই এবারেও একাধিক বিশিষ্ট কবির লেখা এবং পাশাপাশি নতুন প্রতিভার খোঁজে আনকোরা কবির কলমকেও পাঠকের সামনে নিয়ে আসার উদ্যোগ আমরা বজায় রাখার চেষ্টা করেছি ।
এবারের ব্লগ সংখ্যাটি শুধুমাত্র কবিতা, ছড়া দিয়েই সাজানো হয়েছে । অণুগল্পকে আমরা ব্লগের মনোনয়নে রাখিনি কারণ অচিনপাখি ‘অণুগল্প অন্বেষণ’ উদ্যোগের মাধ্যমে অণুগল্প প্রকাশের বাস্তবায়ণ শুরু হবে শীঘ্রই । অচিনপাখির নির্বাচিত অণুগল্প পড়ার জন্য এবং পরবর্তী পর্বে লেখা পাঠানোর বিজ্ঞাপনের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন ।
ব্লগের ক্ষেত্রে আগামী সংখ্যায় অর্থাৎ জুলাই, ২১ সংখ্যা আমরা বিশেষ ‘কবিতায় বর্ষাবরণ’ সংখ্যা করবার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে । বর্ষাভিত্তিক কবিতা ও ছড়া জুলাই এর ২০ তারিখের মধ্যে পাঠিয়ে দিতে পারেন আমাদের মেল আইডিতে ।
করোনা অতিমারির ক্রান্তিকাল কেটে গেলে আমাদের জনজীবন আবার স্বাভাবিক ছন্দে ফিরবে । ডিজিটাল সংখ্যার পাশাপাশি অচিনপাখির প্রিন্টেড সংখ্যা ও প্রিন্টেড গ্রন্থ সংকলনের কাজও দ্রুতগতিতে সম্পন্ন করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ।
সাহিত্যচর্চায় থাকুন । অচিনপাখির ব্লগ পড়ুন, মতামত জানান, লেখা পাঠান আবেদন রাখি । সকলের শুভ প্রচেষ্টার ফলেই পৃথিবী যেমন নির্মল হবে একদিন, তেমনই একদিন হবে সৃষ্টির আহ্বানে উদ্বেলিত, মহানন্দের জয়গানে মুখরিত ।
সকলে সুস্থ থাকুন, সাহিত্যে থাকুন, সৃজনশীলতায় থাকুন । অচিনপাখি পরিবারের পক্ষ থেকে সকলকে শুভেচ্ছা জানাই ।
সুমন্ত কুন্ডু
অনলাইন সম্পাদক
**********
Friday, June 25, 2021
সূচিপত্র
অচিনপাখি
সপ্তম সংখ্যা, নবম বর্ষ, জুন-২১
কবিতা -
পবিত্র সরকার * তপন বন্দ্যোপাধ্যায় * নির্মলেন্দু গুণ * কৃষ্ণা বসু * অসীম সাহা * রহিম শাহ্ * মিলনকান্তি বিশ্বাস * আনসার উল হক * অচিন্ত্য সুরাল * তাপস রায় * বিজয়া দেব * মেঘ বসু * চৈতন্য দাশ * বিষ্ণুপদ বালা * শিবানী বাগচী * শুভদীপ দে * এস কবীর * প্রদীপ মণ্ডল * সবিতা বিশ্বাস * সবুজ জানা
ইন্দ্রনীল দাস * পারমিতা ভট্টাচার্য * বাপ্পাদিত্য পাণ্ডে * শর্মিষ্ঠা বিশ্বাস * অভিজিৎ দাশগুপ্ত * সৌরভ ঘরামী * শম্ভুনাথ কর্মকার * সত্যজিৎ রজক * তনিমা সাহা * হামিদুল ইসলাম * অর্পিতা ঘোষ * সুবীর মণ্ডল * তিতাস সরকার * সুমন ঘোষ * সজল বন্দ্যোপাধ্যায় * অনিরুদ্ধ সুব্রত * সুতপা ব্যনার্জি (রায়) * অমিতাভ সরকার * অমল কুমার বর্মন * বাপন হাজরা * খগেশ্বর দাস
সম্পাদকত্রয়ীর কবিতা
সুমন্ত কুন্ডু * মণিকা চক্রবর্তী * ধর্মেন্দ্র বিশ্বাস
Thursday, June 24, 2021
লিমেরিক - পবিত্র সরকার
লিমেরিক
ঠিকই আছে, তবে
নিয়ম মেনেই কয়েকটি পিস অগ্রিম কালবৈশাখী ছিল ;
আকাশে তাকিয়ে দেখা গেছে কিছু বিধিসংগত মেঘের মিছিলও ।
বর্ষা আসছে ঠিকঠাকই, তবে,
এ প্রশ্নটাও করতেই হবে--
এত বাজ ফেলে মানুষ মারার দরকারটা কি খুব বেশি ছিল ?
আমরা কু-লোক
গরমে ও ঘামে অতিষ্ঠ দেহ, মেঘগর্জনে চিত্তে পুলক ;
ভালো লাগে দেখে দাপুটে বৃষ্টি ছেয়ে ফেলে সব দ্যুলোক, ভূলোক ।
যতই ভালো সে হোক না বর্ষা,
থেকে যায় তবু কিছু সমস্যা--
বন্যায় ভাসে বাঁধ, জমি, বাড়ি--বললেই হব আমরা কু-লোক ।
Tuesday, June 22, 2021
কবিতা - তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
করোনা কবিতাগুচ্ছ
১
সারা বিশ্ব জুড়ে আজ উঠে গেছে কী নাভিশ্বাস
প্রতিপক্ষ কেউ নয়, ক্ষুদ্রস্য ক্ষুদ্র ভাইরাস
কী করে রুখবে তাকে— ধর্মস্থানে খুঁজছে আশ্বাস
গিয়ে দেখে তালাবন্ধ, ঈশ্বর গেছেন বনবাস
ত্রস্ত মানুষ খোঁজে কোথায় রক্ষক আজ তার
দেখছে ঈশ্বর হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে ডাক্তার।
২
মানুষ তো ভেবেছিল অপ্রতিদ্বন্দ্বী সে, সর্বশক্তিমান
যে যার চূড়ায় বসে কত না আস্ফালন গর্জিয়েছে রোজ
বাঁকানো টুপিটি নেড়ে অপাঙ্গে তাকিয়ে হেসে শুনিয়েছে গান
কোনওদিন ভেবেছিল অহংকার হবে তার চরম আফশোশ।
৩
বহু লক্ষ বছরের 'গেরামবারী' জ্ঞান, তার পরাজয়ে
কতটা ক্ষমতা তার মানবসভ্যতা আজ বুঝেছে নিশ্চয়
অজানা ধমক খেয়ে পলকা পাতার মতো ধরাশায়ী হয়ে
জেনেছে মানুষ এক কুটোস্যকুটোমাত্র তার বেশি নয়।
Monday, June 21, 2021
কবিতা - নির্মলেন্দু গুণ
ঘড়ি ও সময়ের গল্প
ঘড়িকে দেখে সময় হাসে।
সে ঘড়িকে ডেকে বলে-
তুমি এখানে কী করছো?
তুমি কে হে? —তুমি কে?
ঘড়ি প্রশ্ন শুনে ইতি-উতি চায়।
কিন্তু কাউকে দেখতে না পায়।
ঘড়ি প্রশ্ন করে, —আপনি কে?
আপনি কে? আপনি কোথায়?
সময় ঘড়ির কাঁটা ছুঁয়ে বলে,
এই যে আমি। আমি সময়।
দ্যাখো তো, চিনতে পারো কি না?
আমি ঈশ্বরের হাতের বীণা।
ঘড়ি দ্যাখে, কে যেন চকিতহাস্যে
মহাকাশে মুহূর্তে মিলায়।
তার অযুত আঁখি অন্ধ হয়ে যায়।
ঘড়ির সকল কাঁটা বন্ধ হয়ে যায়।
Sunday, June 20, 2021
কবিতা - কৃষ্ণা বসু
মনের নির্জনে
সম্পর্ক ভেঙেছে কবে,
ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে বহুদিন আগে,
তবু সেই বাড়িটির পাশ দিয়ে যেতে যেতে
পুরনো দিনের কথা মনে পড়ে !
ঢেউ তোলে ঢেউ তোলে মনের নির্জনে !
ঢেউগুলি কেঁপে কেঁপে ওঠে বারে বারে ।
আর সুগভীরে ছুঁয়ে যায় কেউ !
ভাঙা সম্পর্কের জন্য এখনও বুকের মধ্যে
নষ্ট নীড় জেগে আছে, ভাঙা গৃহকথা !
কেন বেঁধেছিলে তাকে নিভৃতে নিবিড়ে ?
বেঁধে তারপর ছেড়ে দিয়েছিলে !
ভাঙা সম্পর্কের গান, টুকরো ছবিগুলি
পুরনো বাড়ির কথা খুব মনে পড়ে,
খুবই মনে পড়ে-
শুধু মনে পড়ে !
Saturday, June 19, 2021
কবিতা - অসীম সাহা
শেষ-পরোয়ানা
কথা থাকলেই রাখা হয় না! কথার পৃষ্ঠেও কথারা লুকিয়ে থাকে।
ভাষা জানা থাকলেই জানা হয় না, ভাষা জ্ঞানও থাকা প্রয়োজন।
ব্যাকরণ জানেন অনেকেই কিন্তু বৈয়াকরণ হন না সকলে।
একসঙ্গে বহুদূর পথ পাড়ি দেবো বললেই পাড়ি দেওয়া যায় না;
পথে পথে কাঁকর বিছানো থাকে, থাকে প্রতিবন্ধকতার চোরাবালি
আর থাকে অনিশ্চিত পথের সংশয়!
বিশ্বাসের বাগানে পোকামাকড়ের বসতি প্রবল হলে অবিশ্বাস দীর্ঘতর হয়।
হাতের উপর হাত রাখলেই অতিদূর নক্ষত্রের দিকে যায় না এগুনো।
বয়সী বটের কাছে কে আবার নতজানু হতে চায় বলো?
কোকিলের সাড়া পেলে কে আবার কাকের কর্কশ ডাকে
নিদ্রার ভেতরে থেকে অশরীরী আগুনের উত্তাপে দগ্ধ হতে চায়?
তুমি চেয়েছিলে। তোমার ফুলের বনে কাঁটার প্রহরী হয়ে
বহুদিন বিনিদ্র কেটেছে। তবু আমি তোমাকেই রজনী মেনেছি।
তুমি তার কিছুই বোঝোনি। প্রতিটি পংক্তির মধু তোমার ওষ্ঠাসুধা
পান করে কতোটা দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে সরলরেখার কাছে প্রণত হয়েছে—
তুমি তার কিছুই বোঝোনি। শুধু পরাঙ্মুখ প্রেমের কাঙাল হয়ে
শত্রুর হাত ধরে জীবনের সব পথ নিরুদ্বেগ পাড়ি দিতে চেয়েছিলে একা!
অন্ধ গলির স্রোতে ডুবে যেতে যেতে ভাসমান শ্যাওলাকে চেপে ধরে
প্রতারক নদীপথে সমুদ্রমন্থন চেয়ে ডুব দিয়েছিলে—তার অভিমান
তোমাকে নিয়েছে ঠেলে ঘুর্ণিস্রোতে, ডুবোচরে, অচেনা প্রদেশে।
প্রবীণ বটের কাছে আজ আর প্রার্থনা নেই, তরুণ বৃক্ষের খোঁজে যেতে হবে
প্রেইরীর কাছে, হয়তো সুন্দরবনে, পাহাড়ী-অঞ্চলে, হয়তো বা ঋষির আশ্রমে।
ঋষ্যশৃঙ্গের কাছে যেতে পারো—মৃন্ময়ীর স্পর্শহীন অপাপবিদ্ধ সুপুরুষ
ধ্যান ছাড়া তোমাকে সে কিছুই দেবে না! তবু তুমি যাবে? যদি যাও, নিয়ে যেও
প্রবীণ বটের ঝুরি; নীল বিষ, বেদনার বাহু থেকে মৃত্যুর শেষ-পরোয়ানা।
Thursday, June 17, 2021
কবিতা - রহীম শাহ্
চোখ সরিয়ে নাও
আমার একটি পাখি আছে গায় সারাদিন গান
আমার একটি নদী আছে তারও আছে প্রাণ
নদীর একূল ওকূল করে আমার ছোট্ট পাখি
ছলাৎ ছলাৎ ঢেউ এসে রোজ করে ডাকাডাকি।
আমার একটি ফুল ফুটেছে সুবাস ছড়ায় রোজ
একটি ছোটো মৌমাছি তার মধু করে খোঁজ
ফুলের সুবাস এসে বলে পাপড়ি ছুঁয়ে দাও
জুটবে মধু সারা জীবন সুবাস পাবে ফাউ।
আমার একটি বৃক্ষ আছে পাতায় পাতায় ঢাকা
কেউ কি কভু দেখেছে তার সবুজ কীসে আঁকা?
সবুজ রং ধার দিয়েছে প্রজাপতিগুলি
তা-ই না দেখে কাঠবেড়ালির লেজ হয়েছে তুলি।
এসব তোমরা দেখনি তো! দেখবে কোথা থেকে?
অন্ধকারের বন্ধ ঘরে মন রেখেছ ঢেকে
বাইরে এসো আলোয় আলোয় ভরবে জীবনটাও
মোবাইল থেকে শুধু তোমার চোখ সরিয়ে নাও।
Wednesday, June 16, 2021
কবিতা - মিলনকান্তি বিশ্বাস
আনন্দ শিহরণ
তাপিত গ্রীষ্মের প্রথম কালবৈশাখী
নেমে এলো অপরাহ্ণে -
আলো আঁধারির মায়াবি আলোয়
নৃত্যরতা স্নানরতা -
আনতা প্রগলভা আম্রবৃক্ষ শাখা
চারদিক মৃদু বাতাস বইছে
ক্লান্তি ধুয়ে মুছে সমস্ত শরীরে
আনন্দ শিহরণ -
শাখায় শাখায় পাতায় পাতায়।
Tuesday, June 15, 2021
কবিতা - আনসার উল হক
ভাবনা
বিছানায় শুয়ে শুয়ে কত কথা ভাবি,
মাঝেমাঝে বোধ হয় সব হাবিজাবি।
কখনো বা মনে হয়
কোনো বাধা বাধা নয়,
এক ছুটে চলে যাই সিটি আবুধাবি।
কিন্তু সকালে উঠে খাই শুধু খাবি।
কখনো বা আধোঘুমে সংশয়ে থাকি,
এই বুঝি ভোর হয় ডেকে ওঠে পাখি।
সকলের আগে উঠে
ময়দানে যাব ছুটে,
কিন্তু নতুন ঊষা জানালার পাশে,
আমাকে ঘুমাতে দেখে ফিক ফিক হাসে।
দারুণ লজ্জা পেয়ে আমি ঘুম-ঘোরে
অগ্নি-বলয় দেখি টোকা দেয় দোরে।
তখন চমকে উঠি
হেসে হই কুটিকুটি,
চেয়ে দেখি মামা এসে বলে ঠারেঠোরে :
বেলাতে ঘুমায় যারা
ডাকলে দেয় না সাড়া,
কোনো কাজে সফলতা পায় না তো তারা
খেলাধূলা পড়াশোনা লাগে খাপছাড়া।
ঘুম ভেঙে জেগে দেখি মুখরিত পাড়া।
কবিতা - অচিন্ত্য সুরাল
সেই লোকটা
চাল ছাইতে ছাইতে, লোকটার চাল শেষ
তারপর কারা যেন তার চুলোটাও কিনে নিল।
অগত্যা সে উঠে বসেছে একটা ট্রেনে।
তিন-চারটে স্টেশন পার করে
কর্পোরেট হানাদারের মতো একজন টিকিট চেকার,
আদায় করার মতো কিছুই নেই বুঝে,
লোকটাকে নামিয়ে দিল পরের স্টেশনে।
নামিয়ে দিলে কী হবে?
ঘন্টা কয়েক ইতিউতি ঘুরে
আবার একটা ট্রেনে চড়ে বসল।
আবার তিন-চারটে স্টেশন,
আবার ঘাড়ধাক্কা খেয়ে নেমে পড়া।
পরের ট্রেনের অপেক্ষা করতে করতে
একটু ঝিমুনি ধরেছিল বোধহয়।
'টিরেন আ গিয়া' জাতীয় হল্লা শুনে
সে তার ছেঁড়া ঝুলিটা নিয়ে হুড়মুড় করে উঠে পড়ল।
তার যে এগিয়ে যাওয়ার বাসনা প্রবল!
একটা বসার জায়গা পেলে লোকটা ইতস্ততঃ করে...
থাক, তিন-চারটে তো মোটে স্টেশন !
বুঝতেও পারে না যে এই ট্রেন চলছে উল্টোদিকে।
লোকটাকে দেখে কেউ কেউ চিনতে পারলেও,
নিশ্চিত যে নির্বিকার মুখ ফিরিয়ে নেবে।
সেই লোকটাকে দেখলে কী জানি কেন,
তাদের ভারতবর্ষের কথা মনে পড়ে যায়।
Saturday, June 12, 2021
কবিতা - তাপস রায়
এয়ারপোর্ট থেকে সব রাস্তাগুলি ফিরে আসে
শোনো উৎসব হবে। এ পাড়ায় শীতের দুপুরে আখ মাড়াইয়ের কল
ঠুন্ ঠুন্ শব্দ নিয়ে অমন দাঁড়ালে
জেনো তেষ্টা পেতে পারে। তখন কী ঘর-বাড়ি ভেঙে
ছুটে যেতে চাইব না! শ্যামের কুহক টুকু
ঠিক হাওয়া ছুঁয়ে দেবে, লাল-বাস ডাবল ডেকার,রোক্কে রোক্কে
তোমার নূপুরে থাকা নীরার ঘামের গন্ধ যদি ফেটে পড়ে
মানে লুকনো বোমার মতো সূর্যের আক্রোশ যদি
দেখা দেয় … হ্যাঁ হ্যাঁ রাজি, পাগলের কতটুকু ক্লেশ আমি জানি
যেকোনো কৃষির পরে গড়িয়ে গড়িয়ে আমি
শিশিরের কান্নাটুকু হয়ে টের পেতে চাই নদীর তিমিরযোগ সব নয়,তার
থেকে যায় গানের বয়স
কবিতা - বিজয়া দেব
শিল্পীর মুখোমুখি
যদি ভালোবেসে তোমায় রুদ্ধ দেয়ালগুলো ভাঙার ছবি আঁকতে বলি,
যদি বলি শ্যাওলাধরা পুকুরঘাটের ধারে ম্লান বিকেলে আনমনা কিশোরীটিকে তোমার ক্যানভাসে তুলে আনতে,
যদি বলি দু'একটা রঙিন পোঁচ দিয়ে হাটুরেদের আটচালার ভিড়ে ছোট্ট রোগা শালিকটাকে মূর্ত্ত করে তুলতে,
যদি তোমায় বুকের রুদ্ধ কপাটগুলো খুলে উষ্ণ রক্তস্রোতে লোহিত কণিকার জন্মবৃত্তান্তের কাহিনি শোনাই?
প্রস্ফূট করবে তো?
শিল্পীর ক্যানভাসে ফুটে ওঠা অথৈ সমুদ্রে তিমি তিমিঙ্গিলের ছবি
কোটি টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
প্রেমজ আর্তি নিয়ে বলি, প্রকৃতির ক্যানভাসে তুমিও যেমন আছ তেমনি আছি আমিও।
কবিতা - মেঘ বসু
ষড়যন্ত্র
জন্ম অজুহাত ছিল
তোমাকে ছোঁওয়ার
আজ বুঝি, ষড়যন্ত্র
কীভাবে ব্রহ্মাস্ত্র হয়ে যায়
আর... রাজনীতি
পাঠের বিষয় !
কবিতা - চৈতন্য দাশ
কেবল পাওনাগন্ডা
কবিতা - বিষ্ণুপদ বালা
বারোমাস কেন যে ফাল্গুন হয় না
আলিঙ্গনে হৃদয় ভরে না যে!
খিলিপানের মতো যদি গোটা বসন্ত ঋতুটাকে
মুখে পুরে নিতে পারতুম
পাকস্থলীতে, ফুটতো পলাশ-শিমুল-মাদার। আর
কর্ণকুহরের শাখায় বসে চোখরাঙা কালোপাখি ডাকতো কুহু
বারোমাস কেন যে ফাল্গুন হয় না !
ন্যুজ বৃদ্ধ পিতার পিঠে বয়ে আনা মসুর আটির মধ্যে
শেষ হাসিটা হাসছে কি অবশিষ্ট শরষে ফুল ?
বাতাবি তো ফলের গাছ, ফুলের নয় -
তবু তার গন্ধে আমি কি পাগল হয়ে যাব নাকি ?
আমের বোলের সঙ্গে বুঝি মরিয়া পাল্লা চলছে তার
সবার ঠোঁটে চুমু আমার...
বারোমাস কেন যে ফাল্গুন হয় না !
Thursday, June 10, 2021
কবিতা -শিবানী বাগচী
মেঘ-বৃষ্টি
মেঘ জমেছে আকাশ জুড়ে
রিম ঝিম ঝিম ঝরছে অঝোর
নৃত্যে মাতে জল থৈ থৈ বৃষ্টি ।
নতুন আবেশ তোমায় ছুঁয়ে
জড়িয়ে বুকে নিবিড় হয়ে
চোখে চোখে চোখ মেলানো দৃষ্টি ।
হিমেল পরশ আঁধার ঘরে
বুক দুর দুর আড়াল তুলে
আবেগে ঘটায় হঠাৎ অনাসৃষ্টি ।
ভালো লাগার শিহরণে
মন উতলা গোপন প্রেমে
ঠোঁটে ঠোঁট লাগবে বড়োই মিষ্টি ।
রোদ্দুরে মেঘ খেলছে আকাশ
রঙ পেন্সিল রামধনু রঙ
বলো না হারিয়ে যেতে দোষ কি ?
কবিতা - শুভদীপ দে
ওরা ভাসছে
ওরা আসছে
যমুনার জল ভেঙে
বুলান্দ দরওয়াজার গা ঘেঁষে ।
বেনারসের একটা অনামী ঘাটে একবার ধাক্কা খেয়েছিল,
তারপর আবার ...
আসার আগেই কেউ কেউ
নিদ্রা নিয়েছে যমুনার পলিতে ।
মিরকাশিমের তলোয়ারের কানায় যে রক্ত লেগেছিল,
সেই রক্ত শুষে নিয়ে
ওরা আসছে ।
প্রয়াগ পেরিয়ে বক্সার
উন্নাও পেরিয়ে ধুলিয়ান...
ওরা ভাসছে ।
রাজা তখন মখমলের চাদরে বসে -
দাড়িতে হাত বোলাতে বোলাতে সেনাপতির সাথে
লাশের হিসাব কষতে ব্যস্ত
একটা লাশ মানে কত টাকা হয় নায়েব ?
এক একটা লাশে কতটা রাষ্ট্রীয় মাটি কেন যায় নায়েব ?
হিসেব করো, হিসেব করো ।
এই হিসাব আমার দরকার ।
আর কটা লাশ যমুনায় ভাসলে,
রাজা তুমি প্রাসাদ থেকে বেরিয়ে আসবে ?
আর কটা লাশ ?
ওরা কিন্তু আসছে
মনে রেখো রাজা
ওরা ভাসছে ।
কবিতা - এস কবীর
অদৃশ্য গন্তব্য
চলে যাচ্ছে সুখের মানুষ অদৃশ্য সুড়ঙ্গের অনন্ত পথ ধরে...
স্মৃতির ব্যথা বয়ে বেড়া বুক যেন বিক্ষত যতি
সামনে এগিয়ে যাওয়ার ডান পা'টা নিতান্ত ভারী
পেছনের পা টেনে ধরার প্রচেষ্টা এখনো অব্যাহত।
অনেকটা পথ এগিয়ে গিয়েছি যাদের বোঝা কাঁধে নিয়ে তারা এখন দক্ষিণ-দিগন্ত; প্রতিশ্রুতির বন্যায় ভেসে বেড়ানো মানুষ প্রতিনিয়ত খুঁজছে নদীর সংগুপ্ত পাড় আর রাতের গোপিত অন্ধকার।
তবুও যারা পথ হাতড়ে এগিয়ে চলেছে আজ আমি তাদেরই দলে লিখিয়েছি নাম
সময়ের আগে পৌঁছাতে হবে গন্তব্যে!
কবিতা - প্রদীপ মণ্ডল (আত্মশক্তি)
পাতার আড়াল
রাত গাঢ় হলে, ছেঁড়া অন্তর্জাল,
উতলা হয়ে চায় দীর্ঘনিঃশ্বাসগুলো করুক চলাচল।
ফাঁস, মালি বেয়ে শব্দ ও মৌতাত,
ভেঙে দিয়ে ভার্চুয়াল ও বাস্তব, মাঝরাত।
স্বপ্নগুলো সব কোটরবন্দি, মণিময় ক্ষত,
চেয়েছে ভাঙুক গলুই-দাঁড়, তদুপরি হাল; বেয়ে ইচ্ছেমতো।
ক্ষুধার্ত স্পর্শ কাঁপে স্বপ্নে যন্ত্রণার মধ্যে,
মিলে যাক আশ্রয়ী তাত, চ্যুতিটুকু ঢেকে।
অভিমান লিখুক ভালোবাসা, অনুরাগে বাঁধা পড়ুক পত্রজাল;
দেখা হবে কবে প্রত্যাশী চোখ, খুলে দিয়ে পাতার আড়াল।
কবিতা - সবিতা বিশ্বাস
ভালবাসার স্বর্গ
আর তিনটে দিন তার পরেই মালাবদল
আরও দুটো দিন বাদে আমাদের ফুলশয্যা
মরে যাই, মরে যাই, কি লজ্জা! কি লজ্জা!
লজ্জা কিসের রাণী, আমি কি তোর পর?
আমি তোর সাতজন্মের সেই পুরনো বর
পুরনো কেন হবে?
তুমি নতুন রবে
নতুন হয়ে আসবে আমার কাছে
ভুল হয়ে যায় পাছে
তাই প্রেমের কাব্য কবে
এখন তবে ছাড়ি
ব্রিজ পেরিয়ে একটু গেলেই
ওই দেখা যায় বাড়ি
এক বাসেতে রাজা, এক বাসেতে রাণী
তারপরে কি হল আমিই শুধু জানি--
ওরা এখন হাসপাতালের মর্গে
হুড়মুড়িয়ে ব্রিজ ভাঙতেই
প্রাণপাখিটা উড়ে গেছে
ভালবাসার স্বর্গে।
কবিতা - সবুজ জানা
স্মৃতি নৈবেদ্য
ঘোষিত সূচী মেনে স্মৃতি সমাবেশ
বা রেট্রোস্পেকটিভ ঘটা বর্ণাঢ্য রোমান্টিসিজিম
ক্রিমসন ভেলভেট গালিচা স্মৃতি ষ্মরনিকা ছুঁয়ে
বা পর্দায় রঙিন বর্ণমালার সুগন্ধী মিশেল ভাষ্যময়
যা শৌখিন আলোকচিত্রীর কারসাজিতে চিত্রায়িত নয়।
নস্টালজিক অ-তিথির অতিথি
বরং ডাকিনি তোমাকে ছাদের চিলেকোঠার
উচ্ছিষ্টের বিশ্রামাগার থেকে ফিরে এসো
হীরের জৌলুসে মোড়া পুরানো সব ফিরে এসো
আর নিমজ্জিত পুরনো মদের নেশায় ভালোবেসো।
বোধহয় আমায় ভুলতে পারনি
সিঁড়ি ভেঙ্গে অযাচিত তাই
পা টিপে টিপে শব্দহীন সরিসৃপ লজ্জাবতী স্পর্শকাতর
আমার শোবার ঘরের দরজায় এসে
ভেতরে আসার অছিলা খুঁজছ ভ্রমোরের আবেদনে।
আঁকিবুঁকি চৌকস বিশেষ ভাষা ইশারা
নিরালায় অদৃশ্য ডুব দিয়ে যায় রোমন্থন
অপরিণত প্রেম আঁকে একান্ত ফ্ল্যাশব্যাকের ঝটিতি চুম্বন।
ভালবাসার গোপন সংবাদ ডাগর নিটোল পাপড়ি ঠোঁটে
স্মৃতির নৈবেদ্য হয়ে ওঠে ।
Tuesday, June 8, 2021
কবিতা - ইন্দ্রনীল দাস
শুধু তারা চারজন
উত্তরের মাঠে তারা গিয়েছিল ভোরের বাতাসে
আধো খোলা সেই পথ , শেফালির মতো ভাঁটফুলে
ঢেকে থাকা অন্ধকারে নদীর করুণ দীর্ঘ পাড় ।
পার্শ্বদেশ নিয়ে শোয়া রেশমের ঢেউ তোলা গমে
পাকে পাকে সুবর্ণের রঙে জড়িয়েছে রোদ- মাঠ –
অনন্ত পার্থিবে তারা দিগন্ত গুটিয়ে কেটে নেয়
থাকে থাকে গুচ্ছাকারে শব্দহীন ফসলের ভারা ;
ব্যস্ত, গোছানোয় দেখি – সময়ের সূর্য গিয়েছেন
বনের আড়ালে ঢলে, শুধু তারা চারজন মেয়ে
আঁধারের পথ ঘিরে রাশি করে সোনা গম কাটে
শুধু চারজন তারা, অশেষ শ্রমের পরে ক্লান্ত –
ইউক্যালিপটাশের দিঘল সারির নীচে ঘামে
ভেজা পরিধেয় জুড়ে ছেপে ওঠা বিন্যাসের পাটে
গেঁথে রাখা শ্রমে এসে সেইসব নিষ্ঠা যেন আরো
জোর ক’ষে দাবিয়েছে মন, কবে যেন উত্তরের
মাঠে মাঠে মল্লিকার বাস জুড়ে গন্ধ ঝরেছিল ।
কবিতা - পারমিতা ভট্টাচার্য
মেঘলীন
ছুঁয়ে থাকো আরও গভীরে..
পাতার সবুজ রঙে গাঢ়
মাটি'র আশ্চর্য অনুভবে,
ছায়াজন্ম ভিজে ভিজে
আকুল বলুক -
কিছুই চাইনা, এই নাও,
ক্ষোভ, লোভ,ঘৃণার আগুন ;
আমাকে সম্পৃক্ত করো শুধু
ঢালু রাতে মেঘের শিশিরে...
আমি হব শ্যামমেঘলীনা
নিঃশব্দে ঝরে যাব,মাটির গহ্বরে !
কবিতা - বাপ্পাদিত্য পাণ্ডে
একটি মৃত্যু এবং
একসময় জ্বলন্ত চিতার শেষ কাঠটাও
শ্মশান যাত্রীর শেষ জলে নিভে যায় ।
শেষ পিণ্ড হাঁড়ি ভেঙে পিছনে না তাকিয়ে
ফিরে যায় আত্মীয় স্বজনের দল ।
কাঠে বাষ্প-ধোঁয়া ওঠে , লেগে থাকে মৃত্যুরস ।
আমি এখন কায়া ও মায়াহীন প্রেতের দলে
বাঁচার দাবিতে একদিন বাঁচতে চেয়েছিলাম
নায্য দাবিতে অনশন - একটু কর্মসংস্থান ।
অনাহার ক্লিষ্ট শরীরের উপর পুলিশের লাঠিচার্জ
মৃত্যু পরে ঠাঁই লাশকাটা ঘরে ।
সেখান থেকে চিতায় -
পড়ে রইল অবজ্ঞা, প্রতিবাদ ও মর্মান্তিক
বেকারত্বের শেষ বিতর্ক ও পদচিহ্ন ।
নির্বাচিত প্রতিনিধি শোকসভা ও
গোপন প্রমোদে ব্যস্ত এখন -
কবিতা - শর্মিষ্ঠা বিশ্বাস
ভিস্তিওয়ালা
মাছ ধরা জালের সুতোকে জড়িয়ে ঘুমোচ্ছে
বর্ণমালা।
জোনাকিপোকা কি জানে
এমন দিবারাত্রির ম্যাচে ডিফেন্সে কারা খেলে?
খোকা খুকু জাগো!!
ভিস্তিওয়ালা নগরের রাস্তা ভিজিয়ে দিচ্ছে ।
Monday, June 7, 2021
কবিতা - অভিজিৎ দাশগুপ্ত
কঠিন খোলস
মানুষের মাথার খুলি বেশ শক্ত,
খুলি ভেদ করে নতুন ধারণা
প্রবেশ করাতে রীতিমতো যুদ্ধ করতে হয়।
যদিও বা প্রবেশ করানো গেল
তাকে প্রতিষ্ঠিত করা আরো কঠিন,
ঘিলুর সঞ্চারণ সহজে কেউ করতে চায় না।
যেমন আছি, এই বেশ ভালো আছি---
না আছি ভালোবাসায়, না আছি বিপ্লবে,
আছি শুধু কচ্ছপের খোলসে।
কবিতা - সৌরভ ঘরামী
কিচ্ছুটি বুঝিনা
কিছু নীতি, কিছু চিন্তা ভাবনা..
পরাজয় যেখানে শেষ কথা নয়,
অন্ধকারেও প্রদীপ হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা
জনগণকে পথ দেখানো...
নতুন করে শক্তি সঞ্চয় করে এগিয়ে যাওয়া,
আংশিক হলেও মানুষের স্বার্থে..
আদর্শ যেখানে জীবনের চেয়েও মূল্যবান;
নিষ্ঠা যেখানে স্থির উদ্ভিদের মত,
তাই হল রাজনীতি। রাজা রাজড়ার ব্যাপার,
সাধারণে বোঝে না এসব, তাচ্ছিল্য করে।
মাঝেমধ্যে জল ঘোলা হয়,
লাশ ও পড়ে দু-একটা।কেন কি জানি?
রাজা-রাজড়ার ব্যাপার।
আমরা সাধারণে এসব কিচ্ছুটি বুঝিনা।
কবিতা - শম্ভুনাথ কর্মকার
প্রফুল্ল
ভোরের কল্পনা সব--দুয়ারে আলপনা আঁকা
তোমাকে সুখী দেখব বলেই বেঁচে থাকা!
কোনও কারণ নেই কাছাকাছি আসার
কারও বারণ নেই তোমাকে ভালোবাসার!
তবু দ্যাখো দুজনেই কয়েক যোজন দূরে
বাসা বেঁধেছি নিজেদের মতো ঘুরে-ঘুরে!
তিরিশ বছর পর আবার দেখা হয় যদি,
ঝলকে উঠবে ঠোঁটে রোদ,ভেসে যাবে চোখে নদী!
এই তো বেঁচে থাকা--বেঁচে থাকার গল্প,
কিছুক্ষণের দেখাশোনা,কথাবার্তা অল্প!
আমরা ভেবেছি যেখানে জীবনের হয়ে গেছে ইতি
পুরনো কথার ভিড়ে সেখানেই ঘুরে-ফিরে এসেছে স্মৃতি!
হাওয়ায় ভেসেছে মেঘ,বিরহে একাকী বৃষ্টি;
ভিজেছে শ্রাবণ--বড় আনমনে,অনিমিখ তার দৃষ্টি।
অভিজ্ঞ নই আমি,তোমাকে নিপুণ বলি তাই--
স্বপ্ন-ভাঙার গল্প কেবল সত্যি করে শোনাই!
ভোরের কল্পনা সব--শিউলি ফুলের গন্ধ
এখনও গেল না,ফিরেও এল না--দুয়ার বন্ধ!
বৃষ্টি হয়েছে সকাল থেকে আকাশ তবু মেঘে ঢাকা,
সবচেয়ে সুখী দেখব বলেই তোমায় নিয়ে বেঁচে থাকা !
কবিতা - সত্যজিৎ রজক
পুণ্য ও প্রাপ্তি
যদি নিশ্চলতার কথা বলো
তাহলে আমি বেছে নেবো রাত ।
যদি সঙ্গিহীনতার কথা বলো
তাহলে আমি বেছে নেবো নিজেকেই একা ।
যদি তুমি ভয়ের কথা বলো
তাহলে আমি ল্যাম্পপোস্টের গা ঘেঁষে দাঁড়াবো ।
কোনো বাস ট্রাম থাকবে না ,
কোনো জেব্রা ক্রসিং মেনে না
যেখানে খুশি ইচ্ছে মতো পেরিয়ে আসবে
ওপারের ফুটপাত থেকে…..
বিড়ালের নীল চোখেও টের পাবে না,দেখো !
রাতটা আমার কাছে রাত নয়,
পবিত্রতার প্রতীক
আমি খুঁজবো তোমার শরীরের ভেতর মন
মনের ভেতর আত্মা,
তোমার আত্মার ভেতর খুঁজবো আমি আমাকে ।
রাতটা আমার কাছে রাত নয়
আমার পুণ্যতা, ফল প্রাপ্তি ।
কবিতা - তনিমা সাহা
সম্মুখ যোদ্ধা
যেদিন এলাম পেরিয়ে আমার তুলসীতলা,
জেনেছিলাম সেদিন থেকেই শুরু হলো আমার' পাথরের ওপরে পথে চলা-
যখন কাজ নিয়ে থাকতেন উনি রাতদিন পরে
হতো রোষ-অভিযান, রাখতাম চেপে সেসব মনের গুহরে;
ভাবতাম কি-ই বা অতো কাজ, কি-বা অতো দায়,
থাকে কেমনে ছেড়ে নতুনবধূকে, ভুলায়ে সবকিছুকে ।
একদিন উনি নিয়ে গেলেন আমায় ওনার কর্মস্থানে,
দেখি সকলে প'রে ওনার চরণে 'ডাক্তারবাবু' বলে,
আনন্দে এলো চোখে অশ্রু, গর্বে উঠলো বুকটা ফুলে;
চলছিল বেশ জীবন আমার ছলছল গতিতে,
কালে কালে আমার ভালোবাসার বাগানে-
কুঁড়ি দুখানি ফুল হয়ে ফুটলো সেখানে;
পাক ধরেছে এখন ওনার চুলে, ঝাপসা হয়েছে- আমারও চোখ, ভগবানকে জানাই আর্জি-
যেন যেতে পারি প্রয়াণপথে নিয়ে রাঙা সিঁথি;
হঠাৎ এলো ভয়ানক মহামারী, কেড়ে নিল শতশত'
নরনারী, ছাড়লো না সে রোগ ওনাকেও-
বাঁচাতে সকলকে দিলেন প্রাণ অনায়াসেই,
মানুষের সেবায় করলেন নিজেকে বিলীন মানুষের স্বার্থেই।
Sunday, June 6, 2021
কবিতা - তিতাস সরকার
'ভালো আছি'
একটু কষ্ট করে হলেও ভালো থাকতে হয়।
ভালো নেই- কী লাভ বলে?
হ্যাঁ-
উত্তর জানা আছে। কিন্তু, বলতে পারবে তো?
ক'টা বলবে গুনে গুনে!
জেনে-শুনে, গোপন করে- আড়াল রেখে।
'কেমন আছো'-র উত্তরটা 'ভালো আছি'-ই বেশি মানায়।
হ্যাঁ, মিথ্যে।
হয়তো অনেক বড়
কিম্বা ছোট
তবে, মিথ্যেই।
ক'তোবার একটা প্রশ্নের মুখোমুখি হওয়া যায়?
ক'তোবার নিঃশ্বাস ফেললে সেটা দীর্ঘশ্বাস হয়?
ক'তোবার একটা মিথ্যে গুছিয়ে বলা যায়?
তাই, একটু কষ্ট করে হলেও ভালো থাকতে হয়।
একটু কষ্ট করে হলেও 'ভালো আছি' বলতে হয়।
Saturday, June 5, 2021
কবিতা - হামিদুল ইসলাম
সূর্য ডুবছে
আমার ঘরের ভেতরে আরো একটি ছোট্টো ঘর
অন্ধকার বারোমাস
অন্ধকার ঠোঁটে জেগে আছে নির্জন সৈকত
তবু ঘরের ভেতর একটি চারাগাছ প্রতিদিন মাথা তুলে দাঁড়ায়
রোজ নামতা জীবন
স্মৃতির ঘাটে ধীরে ধীরে নেমে আসে আশৈশব উপত্যকা
পরজীবী ঘুম
বিনিদ্র রাত। ইষ্টনামে প্রার্থনা করি রোজ। নৈর্ঋতে শব্দ সংহার
জলের প্রহর গুণি
স্বাস্থ্যহীন বিকেল হেঁটে আসে সমুদ্র পাতায়
চারদিকে বিষন্নতার প্রান্তর। অথৈ প্রজন্ম তুরুপের তাসে
খাদানে ডুবে যাচ্ছে সূর্য
ভেঙে যাচ্ছে ঘরের ভেতরে ছোট্টো ঘর
কবিতা - অর্পিতা ঘোষ
প্রত্যাশা
একাকী মগ্নতা থাকার মাঝেও
যে সুখটুকু পাওয়া যায়,
তা আর পেতে চাইনা আজ,
তৃষিত চাতক হয়ে থাকার চেয়ে-
ভাবনাগুলো চিতার সহমরণে দিয়ে,
বেআব্রু হতে আজ নেই লাজ।
ভয়ের ঘরে মনকে খোলসবন্দী করে
বিষের যন্ত্রণাময় দিনগুলো-
আর চাইনা দেখতে,
সময়ের কার্নিশে পা ফেলে
এগিয়ে যেতে চাই
কল্পনার অমৃতের সন্ধানে।
হৃদয়ের ছেড়া আঘাতগুলোকে
আজ জোড়া দিয়েছি
সোনামুখী সূচ দিয়ে,
নিজেকে আজ ছেড়ে দিলাম
প্রত্যাশী সোনালী সকালের
বহিরঙ্গের আঙিনাতে।
কবিতা - সুবীর মণ্ডল
আকাঙ্ক্ষিত ঝড়
ঝড়ের পরে অশান্ত কিছু ধ্বংসাবশেষ
গেঁথে আছে মনের কার্নিশে।
তোমায় খুঁজতে খুঁজতে হ্যাঁচকা টানে
হাতে নিলাম মৃত ধ্বংসের ফসিল,
পেয়েছি পারফিউমের বোতল,
ভাঙা কাঁকনের টুকরো,
অনামিকায় শোভা পাওয়া হীরের আংটিটি,
আর আমার প্রিয় লাল লিপস্টিক।
আমি একা খুঁজছি না তোমায়,
তোমার প্রিয় আমগাছ
হেলে পড়া কাঠের আসন
বিধ্বস্ত পাখিটি ঘুরে ঘুরে খুঁজছে তোমায়,
নীল দীঘির লাল পদ্ম ছিন্নভিন্ন
অশান্ত ঢেউ তুলেছে উদভ্রান্ত ছন্দে
আকাশ জুড়ে তারাদের করুণ নির্ঝর কান্না
ম্লানিত নিশি বিহগের বাসর শয্যা
মাটি ধোয়া নগ্ন নুড়ি তাকিয়ে অসহায়,
চায় তারা আরও একটি ঝড়,
তোমায় ফিরে পাওয়ার আশায়...
কবিতা - সুমন ঘোষ
গাঁদা ফুল
ওগো আজি পড়ন্ত বিকেলবেলায়,
দেখেছি আমি
নদীর পাড়ে কূল ঘেঁষে,
সারি বেঁধে হলুদ ফুল।
চলো দেখি তাহার ছন্দ ছায়া,
গাঁদা ফুল।
নিত্য খাই অসম দুল,
প্রানে দেয় গো দোলা।
সুগন্ধ ছড়ায় রাশি রাশি,
ঐ সোনালী বিকেল বেলায়।
ওগো আমি আজি
গিয়েছি ফুলও বনে,
লেগেছে মেলা ফুলে ফুলে।
ফুল দেখে খুশি হও,
মনে বাধ, পুষ্পের জীবন।
ওগো অপবিত্র যারা
ছিড়ো নাকো তাহার
ফুল ও পাতা ।
ফুলের প্রেম
জাগো জাগায় মনে।
বধূ সেজে অতসী
ফুলে মনোমালী নবরূপে ।
দেখো আজি
তোমারা সবই
ফুলে গড়া জীবন
কোকিল গানে মধুময়
গাঁদা ফুল।
কবিতা - সজল বন্দ্যোপাধ্যায়
মহাকাল
সিঁড়িটা ধাপে ধাপে পেরোতে চেয়েছিলাম
উড়ানটা নিশ্চিত ছিলো না
তবুও উড়লাম... তারপর...
তারপর... পাখির মতো কত মাঠ ঘাট
পথ প্রান্তর , সাগর নদী , সুখ দুঃখ
পেরিয়ে গেলাম এক নিমেষে...
এখন বারান্দার এক কোণে বসে থাকি
সঙ্গী শুধু হাতল ভাঙা ইজি চেয়ারটা
স্বপ্ন দেখি মহাকালের !!
কবিতা - অনিরুদ্ধ সুব্রত
রাস্তা
শহরে পৌঁছানো যায় তেমনই একটা বিঘ্ন রাস্তা
একদিন ধান পাট চষা জীবনের মেরুদণ্ড হলো
লাজুক কুপির ঘোমটা তুলে দিয়ে,গরুর গাড়িতে
জ্বেলে দিল হেডলাইট, আমরা বললাম আস্তে
পায়ে পায়ে কাদা, নাঙল ফেলে এসেছি মাঠে
রাস্তা যদি রোজ গরম ভাত দেয়, তবে আচ্ছা
তারপর জলা ভরাট হয়েছে অনেক,নদী মরেছে
ফসলের দর দাম বলতে শিখেছে বাপ কাকা
উচ্চ ফলনশীলের বিজ্ঞাপনে রেডিও হয়েছে ব্যস্ত
আমরা মজেছি সাদাকালোর হারানো সুরে,সন্ধ্যেয়
এসেছে ব্রেকিং নিউজ তারপর,শহর উড়ন্ত সেতুর
আমরা কিন্তু শহরে পৌঁছাতে পারিনি এখনও
অথচ সেই রাস্তায় চলেছে প্রান্তজনের ম্যারাথন ।
Friday, June 4, 2021
কবিতা - সুতপা ব্যানার্জী ( রায় )
নিষ্প্রাণ অতীত
এক আকাশ স্বপ্ন নিয়ে ঘুমোতে যাই পাশ ফিরে,
জেগে উঠে দেখি নোনা দেওয়ালে চাপা পড়েছে,
এক বুক আশা নিয়ে বৃষ্টিতে ভিজতে যাই,
তাকিয়া দেখি অধরা ধরা সেখানে অম্ল বুনেছে,
এক আঁজলা স্বচ্ছ জলের প্রত্যাশায় চেয়ে থাকি,
অতি ব্যবহারের অযত্নে তা ভূগর্ভে লীন হয়েছে,
একটা বিবেকের আশায় মনকে চাতক করেছি,
আছড়ে পড়েছে তা ঘাতক বা ধর্ষকের বেশে,
একটা অপূর্ব জ্যোৎস্নায় স্নাত হব ভেবেছি মনে,
চাঁদটা সেদিন মেঘের গ্রাসে মহিমা হারিয়েছে,
একটা মুক্তো-র সন্ধান করেছি এ তটে ও তটে,
আগাগোড়া ধোঁকা খেয়েছি খেয়ালি ঝিনুকে,
একটা উজ্জ্বল ইতিহাসের সামনে বসতে চেয়েছি,
খুঁজে পেয়েছি যত মিথ্যে প্রতিশ্রুতির আর্তনাদ,
একটা সত্যি তাজমহল খুঁজে চলেছি বহুকাল,
ভগ্ন প্রাসাদটা আছে, প্রেমটা কর্পূর হয়ে উবেছে,
একটা সরসিজ বুকে এঁকেছি রঙিন করে,
বেলা শেষে বিবর্ণ হয়েছে তা নিষ্প্রাণ-নিষ্পলকে,
একটা উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়তে চেয়েছি নিজেই,
অতীতটা হাত ধরে নিয়ে চলে গেছে স্থবির করে।
কবিতা - অমিতাভ সরকার
একলা আকাশ
আকাশে আজ মেঘের ঘটা;
সারাবেলাই কাপড় পরে।
এক চিলতে রোদের দেখা,
জীবন বাঁচে আশার তরে।
মেঘের কাপড় হ্রদের জলে
ছবি সেটাই জলেই ধরে।
গাছপালা সব অনেক দূরে;
চেয়ে থাকে, উদাসী মন।
পৃথিবী আজ বড়োই একা।
চেনা ছবি অচেনা সুর।
সবটাই আজ এমনি যেন;
হারানো এই মন-ঠিকানা।
কাপড়-ভাঁজে সব লুকানো।
চেনা কি আর চেনা যাবে?
ভেবেই সে যায় একলা আকাশ।
কবিতা - অমল কুমার বর্মন
এখন যুদ্ধের সময়
এখন যুদ্ধের সময় এসো ঘুরে দাঁড়াই,
পূজার প্রদীপ নিয়ে দেবালয়ে,
বিশ্বাসে হৃদয়ে
নিরাপদ দুরত্বে পা বাড়াই সামনে লড়াই ।
হৃদয়ের আগুনে হই বিউভল,
জল ভরভর চঞ্চল
বাগিচার ফুলে কোলাহল,
হই ঐশ্বর্যে সূর্যের বল ।
অঞ্জলি বাড়াই
এখন যুদ্ধের সময় এসো ঘুরে দাঁড়াই ।
সংশয় তিমিরে বুকে আলো জ্বালি
জলন্ত বৈভবে,
ভাইরাসের সামান্য মেমব্রেন ছিঁড়ে ফেলি
যুদ্ধের জাহাজে ফুলেল কাব্যে।
অঞ্জলি বাড়াই
এখন যুদ্ধের সময় এসো ঘুরে দাঁড়াই ।
ঐ যুদ্ধের রণদামামা ধ্বনিত,
হইও না মনে প্রাণে অবনত;
এখন যুদ্ধের সময় এসো ঘুরে দাঁড়াই,
জিততেই হবে এ অদৃশ্য লড়াই ।
অঞ্জলি বাড়াই
এখন যুদ্ধের সময় এসো ঘুরে দাঁড়াই ।
কবিতা - বাপন হাজরা
আত্মঘাতী
মিথ্যে বিশ্বাসের ফাঁদ পাততে পাততে
মাঝ সমুদ্রে আর কতজনকে ভাসাবে ।
ভাসতে ভাসতে ডুবতে ডুবতে তীরে ফিরে
চেতনার শিক্ষা পেয়ে, যাবে না আর ভাসতে ।
শিক্ষা দিতে দিতে শিক্ষাদাতা হবেই অংশীদার
ভুল শিক্ষার যত অপরাধ যত পাপের ভাগীদার ।
এখনও সময় তো আছে নিজেকে শুধরায়,
ক্ষুদ্র স্বার্থের জন্য মিথ্যের জাল বুনে
তার ফাঁদে মানুষদের জড়িয়ে বিপদে কেন ফ্যালে ?
স্বার্থের দোষ সাধারণী, স্বভাবের দোষ আত্মঘাতী ।
কবিতা - সুমন্ত কুন্ডু
ডাক
মধ্যরাতের তীব্র স্তব্ধতা ভেঙে
কর্কশ স্বরে ডেকে উঠলো সেই কালপেঁচাটা
এবার আমি চলে যাবো,
একলা দাঁড়ানো শিমুলগাছটার পাশ দিয়ে ।
আকাশে আকাশে মহাজাগতিক জ্যোতিষ্করা
কি এক দুর্বোধ্য খেলায় মগ্ন ।
নাসরিন মেঘ কুয়াশা হওয়ার অপেক্ষায়
আমি চলে যাব, দিগন্তের ওপাড় দিয়ে ।
ফেলে যাওয়া বিছানায় পড়ে থাকবে সব
আদর, অধিকার আর কিছু অসহায় স্বপ্নের দায়ভার ।
প্রতিদিন পৃথিবী খুঁটে খাওয়া মানুষরা জানবেও না,
কখন এক অলৌকিক বিস্ফোরণে
সভ্যতা বদলে গেছে সদর দরজার ওপাশে –
ডেকে উঠল সেই কালপেঁচাটা
এমন এক মহাজাগতিক রাতে,
এবার আমায় যেতে হবে সেই ফেলে আসা গন্তব্যে ।
কবিতা - খগেশ্বর দাস
প্রবাহমানতায়
সময়ের বদলে যাওয়া
অচেনা হাওয়ার হালচাল
বুঝতে পারেনা পুরোনো দেয়াল ঘড়ি
অনিয়মের অচল দড়ি
ডিঙেতে পারেনা অজানা পরিভাষায়।
স্রোতের প্রবাহমানতায় নদী বয়ে যায়
দু'পারের বদলে যাওয়া জলছবি
লিখেছে নতুন গান স্মৃতির পাতায়
নতুন নতুন সুরের উপাখ্যানের।
নতুন ভাষায় বৈঠা দাঁড় মাঝি
গাজী গাজী বদর বদর
নতুন যুগের পপ্ মেশানো নতুন ভাটায়ালি।
Thursday, June 3, 2021
কবিতা - মণিকা চক্রবর্তী
কালের সীমারেখায়
নীল সমুদ্রের মতো বিশাল আকাশ
সাত রঙা রঙ নিয়ে মিশেছে দিগন্তে।
পৃথিবীর বুকে মহাকালের পদচিহ্ন
ঈশ্বর বলো, দেবতা বলো সব ধর্মের নামে
মানুষে মানুষে বিভাজন করেছে মানুষই।
ভৈরবের তাণ্ডব সৃষ্টির সংহারে
নিস্তব্ধ, নিঝুম ধ্বংসের বালিয়াড়ি জেগে ওঠে
প্রকৃতির স্নিগ্ধতায় ভরে যায় ধূসর মৃত্তিকাও।
মাটির কাছাকাছি ফিরে যেতে হয় একদিন
সম্পর্কের বাঁধন মুক্তি নেয় কালের সীমারেখায়।
Tuesday, June 1, 2021
কবিতা - ধর্মেন্দ্র বিশ্বাস
হলদি নদীর বাঁকে
পুব দিকে ভোর ডাকে বুলবুল
হলদি নদীর বাঁকে
জুঁই মালতীর শাখে
হৃদয়পুরের মেয়ে
আমায় দেখতে পেয়ে
মাদলের বোলে গানে মশগুল ।
ঝুমঝুমিপুর রূপকথাদেশে
আকাশ সবুজ আঁকে
পরাগের রেণু মাখে
বাউলের সুরে ডাকে
হলদির নদীটাকে
আতর মাখে পিয়ালশাখা এসে ।

