শেষ-পরোয়ানা
কথা থাকলেই রাখা হয় না! কথার পৃষ্ঠেও কথারা লুকিয়ে থাকে।
ভাষা জানা থাকলেই জানা হয় না, ভাষা জ্ঞানও থাকা প্রয়োজন।
ব্যাকরণ জানেন অনেকেই কিন্তু বৈয়াকরণ হন না সকলে।
একসঙ্গে বহুদূর পথ পাড়ি দেবো বললেই পাড়ি দেওয়া যায় না;
পথে পথে কাঁকর বিছানো থাকে, থাকে প্রতিবন্ধকতার চোরাবালি
আর থাকে অনিশ্চিত পথের সংশয়!
বিশ্বাসের বাগানে পোকামাকড়ের বসতি প্রবল হলে অবিশ্বাস দীর্ঘতর হয়।
হাতের উপর হাত রাখলেই অতিদূর নক্ষত্রের দিকে যায় না এগুনো।
বয়সী বটের কাছে কে আবার নতজানু হতে চায় বলো?
কোকিলের সাড়া পেলে কে আবার কাকের কর্কশ ডাকে
নিদ্রার ভেতরে থেকে অশরীরী আগুনের উত্তাপে দগ্ধ হতে চায়?
তুমি চেয়েছিলে। তোমার ফুলের বনে কাঁটার প্রহরী হয়ে
বহুদিন বিনিদ্র কেটেছে। তবু আমি তোমাকেই রজনী মেনেছি।
তুমি তার কিছুই বোঝোনি। প্রতিটি পংক্তির মধু তোমার ওষ্ঠাসুধা
পান করে কতোটা দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে সরলরেখার কাছে প্রণত হয়েছে—
তুমি তার কিছুই বোঝোনি। শুধু পরাঙ্মুখ প্রেমের কাঙাল হয়ে
শত্রুর হাত ধরে জীবনের সব পথ নিরুদ্বেগ পাড়ি দিতে চেয়েছিলে একা!
অন্ধ গলির স্রোতে ডুবে যেতে যেতে ভাসমান শ্যাওলাকে চেপে ধরে
প্রতারক নদীপথে সমুদ্রমন্থন চেয়ে ডুব দিয়েছিলে—তার অভিমান
তোমাকে নিয়েছে ঠেলে ঘুর্ণিস্রোতে, ডুবোচরে, অচেনা প্রদেশে।
প্রবীণ বটের কাছে আজ আর প্রার্থনা নেই, তরুণ বৃক্ষের খোঁজে যেতে হবে
প্রেইরীর কাছে, হয়তো সুন্দরবনে, পাহাড়ী-অঞ্চলে, হয়তো বা ঋষির আশ্রমে।
ঋষ্যশৃঙ্গের কাছে যেতে পারো—মৃন্ময়ীর স্পর্শহীন অপাপবিদ্ধ সুপুরুষ
ধ্যান ছাড়া তোমাকে সে কিছুই দেবে না! তবু তুমি যাবে? যদি যাও, নিয়ে যেও
প্রবীণ বটের ঝুরি; নীল বিষ, বেদনার বাহু থেকে মৃত্যুর শেষ-পরোয়ানা।
No comments:
Post a Comment