Wednesday, December 29, 2021

অণুগল্প- এস কবীর

বিচারের দাবি


দর্জি পাড়ার ছেলেগুলো কখন যে লেখাপড়া করে বোঝা দায়! পাড়ার ভিতরে ছোট্ট মাঠটিতে সারাক্ষণ কিচির- মিচির করতেই থাকে। কখনও কখনও অনেক রাত পর্যন্ত চলে এই পর্ব। বাড়ির গার্জেনরা কি কিছুই বলে না? ছোট্ট মুনুয়াও খেলে বন্ধুদের সঙ্গে কিন্তু ভীষণ ঝগরুটি! কেউ কিছু বললেই বাবাকে ডেকে আনে। হোমরা-চোমরা বাবা এসে দোষ-গুণ বিচার না করেই ওই ছোট ছোট বাচ্চাদের সাতগুষ্টি উদ্ধার করে দেয়। অন্যান্য বাবা-মায়েরা ভয়ে কিছু বলতে পারে না। এভাবেই চলতে থাকে দিনের পর দিন।

                     স্কুলে পড়ার সুবাদে পাশের পাড়া থেকেও অনেকই এ-পাড়ায় খেলতে আসে। সেবারও এসেছিল মাহিরা। কিছু একটা নিয়ে মুনুয়া ও মাহিরার গোল বাঁধে। দু'জনেই দু'জনের বাবা-মাকে ডাকতে ছুটে। মুনুয়ার বাবা হম্বিতম্বি করে তেড়ে আসে-'কোন্ রে মেরে বেটি কো সাতা-রে?- উস্-কি মা কি..."। গিয়েই দেখে মাহিরা'র বাবা মুস্তাফ ভাই মেয়ের হাত ধরে দাঁড়িয়ে আছে। ছ'ফুট দু-ইঞ্চি লম্বা, সুঠাম দেহের অধিকারী মুস্তাফ ভাই-কে দেখেই মুনুয়ার বাবা কাচুমাচু করতে লাগে। এই দেখে মুস্তাফ ভাই তাকে মারতে উদ্দত হয়ে বলে-'কা-রে তু আপনা বাচ্চি কি বাত্ শুনকার সবকা মা কা ইজ্জাত লেগা?' মুনুয়ার বাবা দেখে পরিস্থিতি খারাপ, কিছুতেই পেরে উঠবে না মাহিয়ার বাবাকে, ওদের বংশ তালিকাও বিশাল, তাই মানে মানে কেটে পড়ায় ভালো। সে মুনুয়ার হাত ধরে টানতে টানতে বলে-' চল্ বেটি ইঁহাসে, আল্লা ইস্-কা বিচার করে গা!'

No comments:

Post a Comment