নাগফণীর উলকি
‘শোনো বাবলু ডিসেকশন রুমে তালাটা মেরে দিও। রিপোর্ট তৈরি আছে লকারে রেখে গেলাম। কাল চেম্বার
করে ওই এগারোটার দিকে আসব।”– এই বলে ঘড়িতে চোখ বুলিয়ে ডাঃ শ্যামল হসপিটাল থেকে বেরিয়ে
গেল।
পরেরদিন সকাল সাত’টার সময় চেম্বারে প্রবেশ করার
মুহূর্তে রিসেপশনের নীলুকে বলে দিল– “পাঁচ মিনিট পর পেসেণ্ট ছেড়ো ।”
নীলু বলল– “ ঠিক আছে।”
ঠিক পাঁচ মিনিটের মাথায় পেসেন্ট এল; পরিচিত অর্ধবয়স্কা দি’ভাই । শ্যামল ব্লাড রিপোর্ট
হাতে নিয়ে বলল – “দি’ভাই বসুন। এখন সুগারের সমস্যাটা কমেছে দেখছি। একটু হাঁটাচলা আর
খাওয়া–দাওয়া নিয়ম করে করলেই ব্যাস।”
সামনের টেবিলে রাখা একটা ছবি দেখিয়ে দি’ভাই সাহস
জুগিয়ে আজ জিজ্ঞাসা করে— “তোমার পিতা ?”
“ না না , আমার পিসেমশায়। বড়ো আর্টিস্ট, খুব নামযশ
দেশে–বিদেশে । আমি ছোটো থেকেই তার কাছে মানুষ কিন্তু একটিবারো তিনি আমায় তাঁর স্টুডিওতে
প্রবেশ করতে দেননি। এমনকি তাঁর ছেলেকেও না।
কেন কি জানি !”
আর একটা অর্ধোনগ্ন ছবির দিকে আঙুল দেখিয়ে দি’ভাই
বললেন – “ওটা কী ওনারই আঁকা ছবি ?”
“ হ্যাঁ।
আসল কপিটা লণ্ডনের মিউজিয়ামে আছে। আসলে ছবিটা তাঁর এক মডেলের প্রতিকৃতি।”
“আসল মডেলকে দেখেছ ?”
“ সে সুযোগ
আমাদের কারো ছিল না। ইচ্ছে ছিল পূরণ হয়নি। তবে বাম হাতে আঁকা ঐ যে ‘নাগফণীর উলকি’– ওটা নাকি সত্যিই তার বাম হাতে আছে ।”
“ দেখা হ’লে চিনতে পারবেন ? ”
“দেখা হলে তবেই তো। যাই হোক, নিয়ম করে চলুন আর
ওধুধগুলো কিনে নেবেন।… আসুন দি’ভাই।”
চেম্বার থেকে বেরিয়ে সোজা হসপিটাল পৌঁছায় শ্যামল। ডিসেকশন
রুমে আসতেই বাবলু বলল – “ডাক্তারবাবু সব রেডি করে রেখেছি।”
স্টারনাল স হাতে নিয়ে ডিসেকশন টেবিলের উপর রাখা
রূপবতী এক নগ্ন লাশের উপর থেকে কাপড় সরালে
শ্যামলের চোখ যায় বাম হাতের উপরের দিকে
– সেখানে রয়েছে ‘ নাগফণীর উলকি ’।
স্তম্ভিত শ্যামলের হাত থেকে স্টারনাল স পড়ে গিয়ে
ঝনঝন শব্দ করে ওঠে।
No comments:
Post a Comment