Thursday, December 30, 2021

অণুগল্প- অয়ন বন্দ্যোপাধ্যায়

বৃশ্চিক

 

শৌভনিকের শরীরের ঢেউখেলানো পেশিতে, ফুলে-থাকা খাঁজে খাঁজে মানাতও খুব। সুঠাম ডান ও বাঁ-বাহুর মাস্‌লে, এমনকী মসৃণ-করে-কামানো বুকেও খোদাই করা ছিল। টকটকে ফর্সা ত্বকের ওপরে লতাপাতার জাল। নকশা-কাটা। চিত্রবিচিত্র।

বুকের বাঁ-দিকে জ্বলজ্বল করছে কালো স্করপিয়ন। শার্ট খুলে ফেললেই চোখ টেনে নিত কাঁকড়াবিছেটা। মোম-পালিশ পুরুষালি বুকে বিষাক্ত বৃশ্চিক। জীবন্ত।

রিমিতা খুব পছন্দের খেলা ছিল ঐ বিছের লেজে ঠোঁট ছোঁয়ানো। কেমন একটা আবেশে বুজে আসত চোখ দুটো। মুখের রেখায়-ভাঁজে নেশা আর যন্ত্রণা। যেন বিষের মধুর জ্বালায় চিনচিন করছে সারা ঠোঁট। যেন বা হর্সপাওয়ারের উদ্দাম প্রাণশক্তি শুষে নিচ্ছে সে’ উদোম ট্যাটুগুলোয় ছোঁয়াচ রেখে।

                         রিমিতা এখন মাঝরাতে ঘন রোমে ভর্তি হাড়উঁচু-বুকে মুখ ঘষতে ঘষতে সেই কাঁকড়াবিছেটাকেই মনে করে। পেশীর সঞ্চালনের সঙ্গে ক্রমশ জ্যান্ত হয়ে-ওঠা দুরন্ত কৃষ্ণবৃশ্চিক।

    আজকাল সারাক্ষণ ট্যাটু নিয়েই পড়ে আছে শৌভনিক। বিছে। পাতা। হার্ট। লাভ। আরও অনেক, প্রচুর, অজস্র...।

    পার্লারে ‘ট্যাটু’ আঁকে শৌভনিক।

No comments:

Post a Comment