Thursday, December 30, 2021

অণুগল্প- কৃষ্ণেন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

বাপ

 

‘ডাগদরসাব ! এ ডাগদরসাব !’

ডঃ চৌধুরী চমকে উঠলেন । জবুথবু এক বৃদ্ধ, জরাজীর্ণ চেহারা, তাঁকে ডাকছে বারান্দার নিচে দাঁড়িয়ে । কে ও ? আগে তো কোনদিন দেখেছেন বলে মনে হয় না । অথচ এই সন্ধেবেলা

রীতিমতো বিরক্ত হলেন ডঃ চৌধুরী । এক বছর হল তিনি এখানে বদলি হয়ে এসেছেন । মফঃস্বলের একদম প্রান্তে একটেরে এই মর্গটা, আর তারই লাগোয়া তাঁর কোয়ার্টার । চারপাশে কোনও দোকানপাট নেই, এমনকি কথা বলার কোন লোক । তাই সারাদিন নোংরা, পচা মৃতদেহ ঘাঁটাঘাঁটি করার পর সন্ধেবেলা একা একা এই নির্জন বারান্দায় বসে মদ্যপান করাটাই তাঁর এন্টারটেইনমেন্ট । এই সময় অন্য কোন ঝামেলা তাঁর ভাল লাগে না । অথচ আজ এই উটকো লোকটা

গজগজ করতে করতে সিঁড়ি বেয়ে নেমে এলেন ডঃ চৌধুরী । জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকাতেই বুড়ো লোকটা হাঁউমাউ করে যা বলল তার অর্থ, গত দুদিন ধরে ট্রেনে কাটা পড়া যে বেওয়ারিশ লাশটা এখানে রয়েছে, সে একবার তাকে দেখতে চায় । একেবারে নাছোড়বান্দা । ডাক্তারবাবুর কোন কথাই সে শুনতে চায় না ।

অগত্যা অনেক দোনামনা করে শেষটায় রাজি হলেন ডঃ চৌধুরী । তাকে নিয়ে গিয়ে মর্গ থেকে টেনে বার করলেন সেই বাক্সটাতারপর মুখের ঢাকাটা এক টানে খুলে দিতেই চিৎকার করে কেঁদে উঠলো লোকটা, ‘বাপজান রে

সকালবেলা ডাক্তার কাগজপত্র রেডি করছিলেন । বাবা আসবে ছেলের লাশ নিয়ে যেতে । তার বদলে এল একদল লোক । দূরের বস্তি থেকে এসেছে তারাআদিবাসীর দল । তারা শনাক্ত করল, লাশটা তাদের পাড়ার ভিখু সোরেনের ।

আর তার বাপ ?

শুনে অবাক হয়ে মুখ চাওয়াচাওয়ি করে ওরা । ডাগদরসাব কার কথা বলছে ? ভিখুর বাপ ? সে তো মারা গেছে আজ থেকে চোদ্দ বছর আগে !

No comments:

Post a Comment