বাপ
‘ডাগদরসাব ! এ
ডাগদরসাব !’
ডঃ চৌধুরী চমকে
উঠলেন । জবুথবু এক বৃদ্ধ, জরাজীর্ণ চেহারা, তাঁকে ডাকছে বারান্দার নিচে দাঁড়িয়ে । কে
ও ? আগে তো কোনদিন দেখেছেন বলে মনে হয় না । অথচ এই সন্ধেবেলা —
রীতিমতো বিরক্ত
হলেন ডঃ চৌধুরী । এক বছর হল তিনি এখানে বদলি হয়ে এসেছেন । মফঃস্বলের একদম প্রান্তে
একটেরে এই মর্গটা, আর তারই লাগোয়া তাঁর কোয়ার্টার । চারপাশে কোনও দোকানপাট নেই,
এমনকি কথা বলার কোন লোক । তাই সারাদিন নোংরা, পচা মৃতদেহ ঘাঁটাঘাঁটি করার পর
সন্ধেবেলা একা একা এই নির্জন বারান্দায় বসে মদ্যপান করাটাই তাঁর এন্টারটেইনমেন্ট ।
এই সময় অন্য কোন ঝামেলা তাঁর ভাল লাগে না । অথচ আজ এই উটকো লোকটা …
গজগজ করতে করতে সিঁড়ি
বেয়ে নেমে এলেন ডঃ চৌধুরী । জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকাতেই বুড়ো লোকটা হাঁউমাউ করে যা
বলল তার অর্থ, গত দুদিন ধরে ট্রেনে কাটা পড়া যে বেওয়ারিশ লাশটা এখানে রয়েছে, সে
একবার তাকে দেখতে চায় । একেবারে নাছোড়বান্দা । ডাক্তারবাবুর কোন কথাই সে শুনতে চায়
না ।
অগত্যা অনেক
দোনামনা করে শেষটায় রাজি হলেন ডঃ চৌধুরী । তাকে নিয়ে গিয়ে মর্গ থেকে টেনে বার
করলেন সেই বাক্সটা । তারপর মুখের ঢাকাটা এক টানে খুলে দিতেই চিৎকার করে কেঁদে
উঠলো লোকটা, ‘বাপজান রে —’
সকালবেলা ডাক্তার
কাগজপত্র রেডি করছিলেন । বাবা আসবে ছেলের লাশ নিয়ে যেতে । তার বদলে এল একদল লোক ।
দূরের বস্তি থেকে এসেছে তারা । আদিবাসীর দল । তারা শনাক্ত করল, লাশটা তাদের পাড়ার ভিখু
সোরেনের ।
আর তার বাপ ?
শুনে অবাক হয়ে মুখ
চাওয়াচাওয়ি করে ওরা । ডাগদরসাব কার কথা বলছে ? ভিখুর বাপ ? সে তো মারা গেছে আজ
থেকে চোদ্দ বছর আগে !
No comments:
Post a Comment