ভয় জামিনদার- এ
"জানো তো, আমি পাঁচটা সেলাইমেশিনের জন্য পঁচাত্তর হাজার টাকা লোন নিচ্ছি। সেলাইয়ের কাজ ভালো চললে চার পাঁচটা কারিগরের বেতন দিয়েও রোজগারপাতি ভালোই থাকবে। এখন শুধু তোমার একটা সিগনেচার লাগবে।" অমিতা বিশ্বস্ত বন্ধু মোহনকে একনিশ্বাসে কথাগুলো বলে গেল।
মোহন ভালো করেই জানে তার একটা সিগনেচার মানেই জামিন থাকা। অমিতা কোনো কারণে লোনের কিস্তি ফেল করলে লোনকর্তৃপক্ষ মোহনকে তলব করবে। তাই বিচক্ষণ মোহন কৌশলে জামিনদারি দায় এড়াতে বলল, "লোনফোনের ঝামেলায় কেন যাচ্ছ? তোমার নতুন বাড়ির সামনেটায় আপাতত তাঁবু টানিয়ে খাবারের দোকান দাও। তারপর ইস্কুল, হাসপাতাল, থানা এসব জায়গায় তোমার ফোননাম্বার দিয়ে আসবে। সকাল-সন্ধে-দুপুর তিন বেলাতেই খাবারের অর্ডার পাবে। অর্ডারমতো খাবার সাপ্লাই দিতে পারলে ভালো রোজগারপাতি হবে। ওসব লোনফোনের ঝামেলা মন থেকে ঝেড়ে ফেলো। আমার কথা যদি মানো তো খাবারের দোকান দিয়ে ঝাড়া হাত-পায়ে আমার পরামর্শ মতো আদাজল খেয়ে কাজে লেগে পড়ো। মনে রাখবে, কোনো কাজই ছোট নয়। আজকালকার বাজারে পেটে খাবার না থাকলে কেউ ডেকেও খোঁজ নেয় না।"
এই মোহনই একদিন অমিতাকে বলেছিল, "ছোটোখাটো অসন্মানজনক কোনোকাজ তোমাকে করতে দেব না। তুমি সসম্মানে সেলাইয়ের ইস্কুল চালাবে। আমি তোমাকে সেলাইমেসিনপত্তর দিয়ে সবরকম সহযোগিতা করবো..."
অমিতার পায়ের তলাকার বিশ্বাসের টলোমলো মাটি অস্ফুটে বলে উঠলো--কেউ কথা রাখে না।
No comments:
Post a Comment