ভোরের পার্ক
ভোরবেলা অরিন্দম নদীর দিকে বেড়াতে আসে। শিল্পায়নের ঢেউ নদীর পাড়েও লেগেছে। প্রাকৃতিক দৃশ্যের মধ্যে কৃত্রিম প্রাকৃতিক দৃশ্য তৈরি করা হচ্ছে। পেলোডার লরি জিপ ক্রেন ঘোরাফেরা করছে। নতুন পার্ক হবে। ভোরবেলা যাঁরা নদীর ধারে বেড়াতে আসেন, এরপর তাঁদের টিকিট কেটে পার্কের ভেতরে বসতে হবে। টিকিটের টাকায় উন্নয়নের খরচ উঠবে। শিল্পায়ন ও উন্নয়ন নিয়ে ভোরের নদী তীরে তাই ভেসে বেড়াচ্ছে নানা আলোচনার টুকরোটাকরা। আর সেই টুকরোটাকরার ভেতর ভেসে বেড়াচ্ছে দুটো শব্দ : বিশ্বায়ন ও উন্নয়ন। পেলোডার লরি জিপ ক্রেন--
এই ভোরের নদীতীরে জীবন্ত প্রাণীদের মতো ঘুমিয়ে আছে। তারা জেগে উঠলেই ভোরের পার্কের কাজ শুরু হয়ে যাবে। ভোরে যাঁরা নদীতীরে বেড়াতে আসেন তারা ঘরে ফিরে গেছেন। যখন যন্ত্রের শব্দ আর নদী থেকে লরি ভর্তি বালি তোলার আওয়াজ। বিদ্যুতের লাইন এসে গেছে। জলের ট্যাঙ্ক বসে গেছে। পার্কের ভেতরের রাস্তা তৈরি হচ্ছে। ফুলের বাগান বসছে। টয়ট্রেন আসবে মেরী-গো-রাউন্ড দোলনা রোপওয়ে, বোটিং...। নিসর্গের ভেতরে নতুন নিসর্গ --যেমন দেশের মধ্যে দেশ এস ই জেড।
অরিন্দম শিউরে ওঠে, আকাশে মাথা তোলা সুন্দর যে গাছটা এখানে ছিল কেটে ফেলেছে! যে গাছটিকে নিয়ে মৃদুলার সঙ্গে তার দীর্ঘ স্মৃতি জড়িয়ে আছে। শীত বা গ্রীষ্মের ভোরে স্কুটারে তারা এসে গাছটার নিচে বসত আর স্বপ্ন দেখত ভবিষ্যতের। গাছটির সঙ্গে সঙ্গে সেই স্মৃতিতে ইলেকট্রিক করাতের চিহ্ন! রক্তপাত! উন্নয়ন এভাবেই কত মানুষের স্মৃতিতে রক্তপাত ঘটাচ্ছে! শিল্পায়ন উন্নয়নের সময় এরকমই ঘটে। যেমন তাদের প্রাকবিবাহিত জীবনের অনেক স্মৃতি ভোরের নদীর নিসর্গে হারিয়ে যাবে। অবশ্য কিছু কিছু স্মৃতিচিহ্ন শপিংমল বিগবাজার বুটিকে কিনতে পাওয়া যাবে। শুধু হারিয়ে যাবে এই ভোরের নদীতীরে মৃদুলার সঙ্গে বেড়াতে আসার স্মৃতিচিহ্নগুলি-- যা আজো তার স্মৃতিতে আনমোল...।
No comments:
Post a Comment