বিরিয়ানি
ভগা চ্যাটার্জীকে এখন আর পূজাপার্বণে কেউ ডাকে না। ভুলভাল মন্ত্র পড়ে। মাথার ঠিক নেই। থেকে থেকে অ্যাবনরম্যালিটি বেড়ে যায়। ক্ষণেক একটু কমে। আবার বাড়ে। বাড়বে না কেন? যে ঝাড় খেয়ে এলো টালিগঞ্জ থেকে। প্লট বেচা পাঁচ লাখ। হিরো হতে গেছিলো... পাঁচ লাখ জমা করে দেবশ্রীর হাতে এক চড় খেয়ে বাড়ি চলে আসে। সেই শোকে মা ও বাবা পর পর চলে যায়। এক দাদা সুনীল চ্যাটার্জী ঘুরে ঘুরে লটারী বেচে সংসার চালায় ভিন্ন হাঁড়িতে...
ভগা মানে ভগীরথ চট্টোপাধ্যায়- এর বউ রোগে ভোগে আক্রান্ত দুই দুই বার চার মাসের বাচ্চা ঝরে যায়। এখন স্বামী-স্ত্রী কেমন যেন অকালে একবোঝা কাশফুল মাথায় নিয়ে মরানদীর পাড় ধরে হেঁটে চলেছে...
মাঝে মাঝে ভগার চেতনায় টন টনাটন শরতের ঢাক বাজে। বাজবে না কেন? পচাশিতে ইংলিশ অনার্স বি.এ তে ব্যাক ছিল। নেতা- মন্ত্রীদের।গালি দিয়ে উদ্ধার করে দেয়। শালা-শালী সবাইকে ঘর দিলো আমার সেই একচালা ফুটো টিনের ঘর। জল পড়ে। চোখে দেখে না। ধৃতরাষ্ট্রের দল। বাস্টার্ডগুলো কতবার ঘরের ছবি তুলে নিয়ে গেল- দিল্লিকা লাড্ডু। আসুখ এবার ভোট চাইতে আছোলা বাঁশ ঢুকিয়ে দেবো পেছনে...
সবচেয়ে পুরনো বাসিন্দা এই চ্যাটার্জি পরিবার। কোথায় যে কার অভিশাপ লেগেছিল যে এক পাও এগোতে পারেনি বরং তিলে তিলে সংসারটা টিম্ টিম্ করে জ্বলছে প্রদীপের শিখাটুকু...
চারিদিকে বড়ো বড়ো বিল্ডিং উঠেছে বাড়ির পাশ দিয়ে। পাকা সড়ক চলে গ্যাছে গাইঘাটা যশোর রোড। এর পাশে এখন ভগার এই একচালা যে কী বেমানান লাগে!
লকডাউন পিরিওডে পরিযায়ী মুম্বাই এর এক হোটেল শ্রমিক তার বাড়ি সংলগ্ন নিজস্ব রোড সাইডের পোড়ো জায়গায় একেবারে ভগার ঘরের লাগোয়া রাতারাতি ব্যাঙের ছাতার মতো বানিয়ে তুললো এক ফার্স্ট ফুড রেস্টুরেন্ট নাম 'শ্রীকৃষ্ণ... ইন্ডিয়ার চাইনিজ এবং কন্টিনেন্টাল সবই রমরমিয়ে চলছে। সন্ধের পরে চাইনিজ খাবারের সুগন্ধে সারাপাড়া মঁ মঁ করে। সারাদিন এখানে ওখানে টই টই ভ্রমণ করে বেলাডুবে গেলে পর একগাদা খিদে নিয়ে বাসায় ফেরে ভগীরথ। ছেঁড়া খেজুর পাতার মাদুরে কম্বল মুড়ি নিয়ে চুপচাপ বসে থাকে। বউকে বলে এই-ই গন্ধ পাচ্ছিস? স্পেশাল মেনু। এক্ষুনি আজ বিরিয়ানি কাটছে। শিগগির আমার ভাত বাড়ে। লঙ্কা পিঁয়াজ যা আছে নিয়ে আয়-- গন্ধং অধং ডোজনং... এই তো আমি বিরিয়ানি খাচ্ছি...
গল্প কোথায়?
ReplyDeleteএবার পড়ুন ।
Delete