ঝালমুড়ির ঠোঙা
এতক্ষন লাগলো? আমায় বসিয়ে রাখলে এখানে
একা?
যা ভীড়! বিশাল লাইন! একা
কোথায়? সাথে সমুদ্রের ঢেউ তো আছে! নে ধর! খেয়ে নে!
বিয়ের পরও তুই তুকারি
ছাড়বে না?
তাতে অসুবিধা কোথায়? ভালোবাসার
কি ঘাটতি পড়েছে! আর তুই তো আমার প্ৰিয় বান্ধবীর বন্ধু রে!
এখন থেকেই অভ্যাস করো।
আসবে না এতো তাড়াতাড়ি!
সায়নীকে ই... আচ্ছা তোর সাথে সায়নীর আর যোগাযোগ নেই? ফেবুকেও পাস নি ওকে?
না! আগেও বলেছি। ভুলে
গেলে চলবে? তিতলির গলায় উষ্মা।
এই, এই দ্যাখ, ঝালমুড়ির
ঠোঙাটা আসলে একটা চিঠি! দীপন অবাক হয়ে বলে । তাও আবার প্রেমপত্র।
হ্যাঁ, তাই তো! আমারটাও
তাই! তিতলিও অবাক!
দুজনেই জোরে হেসে ওঠে।
এখনো লোকে ট্রু লাভ লেটার কাগজে কলমে লেখে ? তিতলি
বলে।
" কেন আমরা লিখি
নি! মেল বা মেসেজে লিখেছি তো!" দীপন আরেকবার ঝালমুড়ি মুখে দেয়!
একটা ঘটনা মনে পড়ে গেল
জানিস তিতলি!
মাসতুতো দাদা তখন দীপশিখাদিকে
খুব ভালোবাসে। কিন্তু কিছুতেই ওকে বলতে পারছে না! তখন ওর বেস্ট ফ্রেন্ড সুনয়নীকে পটিয়ে
পাটিয়ে হাতে চিঠিটা দেয়। আর ওর হাতে হাতে রিপ্লাই আনতে বলে।
উফফ! কী সব ঝালমুড়ি আনো!
এতো ঝাল!
ওমা! তুই ঝাল ঝাল ই তো
পছন্দ করিস! আর ঝাল মুড়িতে তো.... তারপর শোন না , সুনয়নীদি দীপশিখাদির বেস্ট ফ্রেন্ড
হলেও চিঠিটা চেপে দেয়! আর অমিতাভদাকে বানিয়ে বানিয়ে লিখেছিলো যে, দীপশিখাদি ওকে পছন্দ
করে না। ওকে লোফার, রকবাজ ইত্যাদি বলেছে ।
আর কোনোদিন এইসব ঝালমুড়ি টুরি আনবে না!
উফফ! জিভ পুড়ে গেলো ঝালে! ভালো লাগে না এসব! ডিসগাস্টিং!
বুঝলি,
তারপরে কীভাবে ওই অখাদ্য, বাজে, লেখাপড়ায় কমা সুনয়নীদি দাদার ঘাড়ে চাপলো! আর সারাজীবন
ঘাড়মুটকে রেখেছে।... হা হা হা হা করে হাসে দীপন!
তিতলি তড়াক করে লাফ মেরে
উঠে দাঁড়ায়! ঝালমুড়ির ঠোঙাটাকে দুমড়ে মুচড়ে পিষে ছুঁড়ে মারে সামনে সমুদ্রের ঢেউয়ের
মাথায়।
তিতলি! একী! এভাবে রিএক্ট
করছিস কেন! কী হলো তোর?
No comments:
Post a Comment