মাটি টাকা
প্রিয়তোষ বাবু দীক্ষা নিলেন, রামকৃষ্ণ আশ্রম থেকে।প্রায় ছয়মাস শুদ্ধ থেকে। দীক্ষা নিলেন জীবনের উপান্তে এসে। না নিয়ে উপায় ছিলো না। এতদিন সময় করতে পারেননি কারণ এত কাজ এত টাকা এত মেয়েছেলে! তিনি জমির প্রমোটর, বিল্ডার। জমি কেনেন যে দামে বিক্রি করেন তিন গুণে। আর এটা করতে গানবয়, গুন্ডা পুষতে হয়। তাতে কি। শ্বশুরের টাকায় ইনভেস্ট। শ্বশুরের মোটা মেয়েটাকে বিয়ে করে বালিশ বানিয়েছেন। বাইরে মেয়েছেলে আছে। বৌকে শাড়ি গয়নায় ভরিয়ে দিলেই খুশি, বিড়ালের মতো আদর নেয়। মানুষ কিছু ভাববে তাই ওকে একটা সন্তান দিতে হয়েছে। সেই রিয়া এমবিএ করে এব্রডে। অতএব বিশাল সম্পত্তি নিয়ে তিনি কি করবেন! তাছাড়া এখন মেয়েমানুষে সুখ পান না! শরীর বিগড়ে গেছে। অতিরিক্ত মদ্যপান, উশৃঙ্খলতার জন্য সুগার, কিডনি, লিভার দুই গেছে। এই সেদিনও তার কথায় পল্টু একটা লাশ ফেলে দিলো। পল্টু ভালো শুটার। কিন্তু কে জানত এই হত্যা তার ভারী পড়ে যাবে। যার জমি সে দখল নিতে চেয়েছিল সেই বিনয়বাবুকে পল্টু একবারে খতম করে দিয়েছে। ব্যাটা কি যে ভুল করেছে! লোকাল থানা পার্টি সবাইকে টাকা দিয়ে রাখলেও সে জানতো না বিনয় সমাদ্দারের এক ভাই আছে অভয়। থাকে মুম্বাই। সে আন্ডার ওয়ার্ল্ডের একজন ডন। বিনয় বিনয়বাবুর ছেলে অভীক তাকে খবর দিয়েছে। অভয়কে বাইরে থেকে সবাই জানে বিজনেস ম্যান।
সেই অভয় এখানে ডেরা বেঁধে আছে। দুদিন তাকে আক্রমন করে। একদিন কানের কাছ দিয়ে বুলেট চলে যায়। প্রিয়তোষের পল্টু আর মাসলেম্যানরা ওর কাছে নস্যি। অভয় হোটেলে বসে সবাইকে কিনে নিয়েছে। এমনকি পল্টুকেও। ব্যবসা গেছে এবার প্রাণে বাঁচা কঠিন। এই শহরে তার প্রতিদ্বন্দ্বী নেই কিন্তু অভয় তাকে গর্তে ঢুকিয়ে দিয়েছে। এই জমির ব্যবসায় তার অনেক টাকা হয়েছে এবার তো সেই টাকা মাটি!
এদিন রাতে তিনি কিছুই খেলেন না। বৌকে জমিদারি খাটে ঘুমোতে বলে তিনি পাশের ঘরে, আগে যেখানে মেয়ে থাকত সেখানে শুয়ে পড়লেন। ঘুম আসে না কিছুতেই। প্রাণের ভয়। এ আমি কি করলাম! সব মাটি সব মাটি। একটা আচ্ছন্ন ভাব।
-প্রিয়তোষ
-কে ?
-আমি ,যার কথা তুই আওড়ে যাচ্ছিস!
প্রিয়তোষ চোখ খোলে। এক আটপৌড়ে ধুতিপড়া, সামনে কালো দাঁত, চুল নেই। -আমি আমি রে গদাই। বলেছিনা মাটি টাকা টাকা মাটি। মাটি বেচে অনেক টাকা করেছিস এবার দেখ ব্যাটা। বাঁচতে চাস মাকে ডাক। এই বলে সেই মূর্তি তীব্র আলো ফেলে চলে গেলো। প্রিয়তোষ ধুচমুচ করে উঠে চোখ মেলে দেখেন মেয়ের বইয়ের টেবিলের ওপরে ওই মানুষটি। নীচে লেখা শ্রী শ্রী ঠাকুর রামকৃষ্ণ দেবায় নমহ। মেয়েটা তার ভালো ছিলো। অভিমানে দেশ ছেড়েছে। তিনিও সব ছাড়বেন। অভয়ের কাছে আত্মসমর্পণ করবেন। আর এই ঠাকুরের পায়ে সমর্পণ।
পাঠক, এই গল্প লেখার আগে শুনলাম অভয় মুম্বাই পুলিশের জালে ধরা পড়েছে। আর প্রিয়তোষের আজ দীক্ষা নেওয়া হল ।
No comments:
Post a Comment