নিরুদ্দেশ
কলকাতায় সেলুনের দোকানে রোজগারপাতি বেশ ভালোই সন্দীপের । বাইরে হোটেল থেকেই খাবারের ব্যবস্থা, রাতে ওই দোকানের মধ্যেই থাকে সে । এই একবছরে নিজেকে একটু গুছিয়ে নিয়েছে । গ্রামের বাড়িতে বৃদ্ধা মা আর মেয়েকে নিয়ে পরমার ভালোভাবেই সংসার চলে যায় । কলকাতা বাজারে সন্দীপের একটু বেশি খরচা হলেও পনেরো দিন অন্তর অন্তর বাড়িতে টাকা পাঠায় । বেশ কিছুদিন থেকে সন্দীপ মনে মনে ভাবছিল পরমাকে যদি তার কাছে নিয়ে আসা যায়, তবে দুজনে সুখেই থাকতে পারবে । পরিকল্পনা করার মাসখানেকের মধ্যেই সন্দীপ গ্রামের বাড়ি যায় ।
ওদিকে সন্দীপের ক্লোজ বন্ধু বিল্টু লকডাউনের কারণে কোম্পানির কাজ হারিয়েছে । সে এখন মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে । বিল্টুর সঙ্গে সন্দীপের সুখ-দুঃখের অনেক কথা হয় । সন্দীপ বলে- বিল্টু চল না কলকাতায় । কলকাতা গেলে একটা কাজ ঠিকই পেয়ে যাবি । এই আশায় বিল্টু সন্দীপের সঙ্গে কলকাতায় আসে, সঙ্গে পরমা, তার মেয়েও । ছোট্ট একটা ঘরে সন্দীপ, পরমা তার মেয়ে সুখেই দিন কাটাতে লাগল । বিল্টু সন্দীপের দোকানেই থাকে । সন্দীপের কাজে যতটুকু পারে সাহায্য করে । সন্দীপের ঘর থেকে খাবার এনে দেয় বিল্টু । বেশ কিছুদিন এভাবে চলতে চলতে বিল্টুর যেন সম্মানে লাগতে শুরু করল । তবু বাধ্য হয়েই তা করতে হয় । খাবার আনার সময় একদিন পরমাকে বলে- জান পরমা, আমি না ভীষণ একা । খাবার নিতে এসে তোমার সাথে দুচার কথা বললে বেশ ভালো লাগে ।
সন্দীপ পরমার ভেতর একটা পরিবর্তন লক্ষ করে । তাই সন্দীপ বলে ওঠে- তুমি প্রায়ই বাড়ির বাইরে যাও, কোথায় যাও ? এই শহরের তো তুমি কিছুই চেনো না । পরমা বলে- খুকুর দিদিমণির সঙ্গে এই শহরটা মাঝে মাঝে দেখতে বেরোই । তোমার তো আর দোকান দোকান করে সময় হয় না । একদিন হঠাৎ পরমা নিরুদ্দেশ হয় । একটা চিরকুট পায় সন্দীপ, তাতে লেখা ছিল- তোমার সঙ্গে সংসার করতে করতে হাঁপিয়ে উঠেছি, তাই নিজেকে মুক্তি দিলাম । পরমা কোথায় গেল অনেক খুঁজেও সন্দীপ তাকে পায়নি । বিল্টুকে জিজ্ঞাসা করলে জানায়- আমি কী করে বলব ! তারপর বিল্টু একদিন সন্দীপকে বলে- সে একটা ভালো কাজ পেয়েছে । বিল্টু নতুন কাজে চলে যায় । সন্দীপ এক বুক যন্ত্রণা নিয়ে পরমাকে খুঁজে বেড়ায় ।
No comments:
Post a Comment