গল্প হলেও সত্যি
রাত বারোটা হবে; ফোনটা হঠাৎ বেজে উঠলো। রিসিভার তুলতেই ভবেনের ভাঙা ভাঙা গলার আওয়াজ, ফোন করে জানালো যে একটু আগেই মারা গেছেন অরুনিমাদি। তুমি তাড়াতাড়ি এসো দাদাবাবু বলেই ফোনটা কেটে দিলো। যথারীতি আমি গাড়ীটা বার করে রওনা দিলাম, এক যুগ পর আলিপুর দুয়ারের উদ্দেশ্যে। ওখানে পৌঁছাতেই দেখলাম আত্মিয় স্বজন সকলেই প্রায় এসে উপস্থিত। তড়িঘরি করে সকলেই শ্মশান অভিমুখে রওনা দিলাম। মুশলধারে বৃষ্টি শুরু হল, শব ভিজে গেছে, দাহ করতে বেশ অসুবিধে হবে ভেবে আরো কিছু কাঠ জোগাড় করতে অগত্যা ভবেনকেই পাঠালাম। কাঁধ থেকে শব নামিয়ে আমরা সামনের চায়ের দোকানে আশ্রয় নিলাম। বেশ শীত শীত করতে লাগলো। মিনিট পনের পর বৃষ্টি থামলো, হঠাৎ দেখি টাল-মাটাল অবস্থায় শ্মশানের ওপাড় থেকেই কে যেন এগিয়ে আসছে এদিকে । চা হাতে সবাই একসঙ্গে প্রায় চিৎকার করে উঠলাম, একি অরুণিমা না? আমরা হতবাক চোখে চেয়ে রইলাম, যে পথ দিয়ে অরুনিমা আমাদের দিকেই হেঁটে আসছিলো...
শ্মশান থেকেই সোজা ওকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলো। দেখতে গিয়ে দেখি, হাসপাতালে নয় নম্বর বেডে শুয়ে অরুনিমা মিট মিট করে আমায় দেখে হাসছে। ডাক্তার কাকার মুখে শুনলাম, বৃষ্টির জল ও কাঁধের ঝাঁকুনিতেই নাকি অরুনিমার হার্টটা আবার চলতে শুরু করেছিল।
No comments:
Post a Comment