সাঁকো
শাশ্বত একরাশ বিরক্তি নিয়ে হনহন করে এগিয়ে গেল
কিছুটা। দাঁতে দাঁত চিপে বিড়বিড় করে বলল -
কেন যে মরতে বলতে গিয়েছিলাম, নেকু একটা।
পল্লবী দৌড়ে গিয়ে জাপটে ধরল ওকে।
আহ! কি হচ্ছে টা কি?
গল্পটা আর একবার বলো। বলো না গো। নাহলে কিন্তু....
ছাড়তো। বলছি। শাশ্বত একটা সিগারেট ধরাল। ক্রমে
অধৈর্য হয়ে উঠছিল সে। কাটা কাটা ভাবে বলল " একটা সাঁকো ছিল। সাঁকোটার মালিক ছিল
একটা দৈত্য। সে কাউকে ওর সাঁকো পার হতে দিত না। কেউ পার হওয়ার চেষ্টা করলেই ছুঁড়ে ফেলে
দিত যেদিক থেকে সে এসেছিল।" একনিশ্বাসে গল্প বলে শাশ্বত থামল। বলল - শান্তি!
পল্লবী তখনো ওর হাতটা ধরেছিল। আরো জড়িয়ে ধরে কাঁধে
মাথা রাখতে রাখতে বলল,- ইস! কি ভালোই না হতো যদি এই সাঁকোটার মালিক একটা দৈত্য হতো।
সিগারেট ফেলে দিয়ে শাশ্বত হাসতে লাগল। বলল - হ্যাঁ।
সে আর বলতে, শ্বশুর বাড়ি যাওয়ার ঝক্কি থেকে অন্তত রেহাই পাওয়া যেত।
ধুস! তুমি খুব আনরোমান্টিক। এই সাঁকোটা যদি দৈত্যটার
হতো, আমরা সারারাত ধরে সাঁকো পেরোতাম। কি মজাই না হতো বলো?
২
পল্লবী এখন রোজ আসে সাঁকোটাতে। অনেকক্ষণ ধরে চেয়ে
চেয়ে দেখে, সাঁকোটাকে। সাদা-কালো অথবা খয়েরি রঙের খড়ি দিয়ে সাঁকোটার উপর ঘর বানায়।
তারপর পার হয় সাবধানে। বারবার। প্রতিনিয়ত। নিজেকে সাহস জোগায়। আর মনে করায় নিজেকে
- যদি দৈত্য বেড়িয়ে আসে ঘরটা থেকে ঘুরে যেতে হবে ওকে। যেদিকে শাশ্বত থাকে তার উল্টো
দিকে। তাহলেই দৈত্য তাকে ছুঁড়ে দেবে শাশ্বতর দিকে।
দিন যায়...
মাস যায়...
বছর যায়...
দৈত্য আসে না। দৈত্য একবারই এসেছিল। বন্ধ্যাত্ব
নিয়ে। বাঁজা অপবাদ দিয়ে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে গেছে বাপের বাড়িতে।
No comments:
Post a Comment