পছন্দ অপছন্দ
রসময়ের হবু মেয়ের জামাইকে একদম পছন্দ হয়নি। প্রভাবতীর পছন্দ। স্ত্রীকে খুব ভয় রসময়ের। প্রথম যৌবনে প্রভাবতীর রূপ তাকে ভাসিয়ে নিয়েছিল। প্রভাবতী যা বলত রসময়কে তাই শুনতে হত। সেই অভ্যেস এই প্রৌঢ়ত্বের শেষ পর্যায়ে এসে ভয়ে পরিণত হয়েছে।
ছেলেটি এমনিতে দেখতে ভালো, কথাবার্তা আচার-ব্যবহার মন্দ নয়। কিন্তু কেন কে জানে, ভালো লাগে না। একটু যেন ঔদ্ধত্য আছে, যদিও সেটাকে সেভাবে জাহিরও করছে না।
মেয়ে শৈলীকে একদিন চুপি চুপি নিজের ঘরে ডেকে রসময় জিজ্ঞেস করে - তোর সূর্যকে পছন্দ?
শৈলী উদাসীনভাবে বলে - কী জানি!
-মানে?
-মানে কিছু নেই।
-বুঝলাম না।
-তোমার কেন অপছন্দ বলতে পারো?
-না।
-তেমনি। পছন্দ অপছন্দ বুঝি না। - বলে একটা হাই তুলে শৈলী চলে গেল।
বিকেলের অন্তিম রক্তরাগে তেমনি নেই - আঁকড়া ভাব। শৈলী কি সূর্যের প্রতি অনুরক্তি অনুভব করে না? তাহলে বিয়েতে সায় দিল কেন?
ফেলে আসা নিজের জীবনে কত খুঁটিনাটি ঘটনা মনে পড়ে। একবার প্রভাকে নিয়ে সমুদ্রের ঢেউ গুনছিল রসময়। তখন নতুন বিয়ে হয়েছে। প্রায় একঘন্টা জুড়ে ঢেউ গোনার পর একটা তিমি ভেসে আবার ডুবে গিয়ে ঢেউ গোনার শৃঙ্খলা ভেঙে দিয়েছিল। ঠিক যেন তেমনি শৈলীর ঔদাসীন্য শৈলীর হবু বর সূর্যকে অপছন্দ করবার শৃঙ্খলাকে ভেঙে দিয়ে গেল। ধীরে সন্ধে নামার মধ্যে প্রকৃতির রূপান্তরের শৃঙ্খলা তাকে এবার কেমন যেন বিস্মিত করে তুলল।
No comments:
Post a Comment