বৃদ্ধাশ্রম
সায়ন সদ্য প্রাইমারি স্কুল থেকে হাইস্কুলে উঠেছে। এখন ক্লাস সিক্স। স্কুল থেকে ফিরে খেলার সঙ্গী বলতে ঠাম্মি। বাবা বি.ডি.ও অফিসের ডি গ্রুপের কর্মী। মা একটা বেসরকারী কোম্পানিতে চাকরি করে। কাজের মাসি ও ঠাম্মিই বেশিরভাগ সময় দেখাশুনা করে সায়নকে। ছেলের দিকে ফিরে তাকাবার সময় হয় না মিনার । পার্টি, অফিসের বন্ধু-বান্ধব, মিটিং এসব নিয়েই তার সময় কেটে যায়। অনিন্দ্য, মিনা একদিন ঠিক করল ছেলেকে কোনো মিশনে ভর্তি করে দেবে। মিনা একটা কথা বলবে বলবে করে অনেকদিন ধরেই মনের মধ্যে পুষে রেখেছিল। আজ সু্যোগ বুঝে বলতে না পারলে হয়তো আর বলা হবে না। তাই এই সুযোগে অনিন্দ্যকে মিনা বলে - তার মাকেও তো কোনো বৃদ্ধাশ্রমে রেখে আসলে নিজেরা স্বাধীনভাবে চলতে পারবে, নইলে সায়নকে মিশনে পাঠালে তার মা একা একা বোরিং ফিল করবে।
মাসখানিক পর এক রোববারের সকালে একটা গাড়ি বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে। ছেলেকে নিয়ে অনিন্দ্য ও মিনা গাড়ির কাছে এল। একটা ব্যাগ হাতে ঠাম্মিও নেমে এল ওপর থেকে। সায়নের দু'গালে চুমু খেয়ে ছলছল চোখে গাড়িতে উঠতে যাবে এমন সময় সায়ন তার বাবাকে জিজ্ঞেস করলো : 'ঠাম্মি কোথায় যাবে বাপি?' অনিন্দ্য নীরব। মিনা বলে উঠল বুড়ো হলে সবাইকে ওখানে যেতে হয়। হঠাৎই সায়ন বলে উঠল মা, তুমি আর বাপি বুড়ো হয়ে গেলে ওখানে চলে যাবে ? অনিন্দ্য ও মিনার দিকে একপলক তাকিয়ে ভারতী দেবী গাড়িতে উঠে পড়লেন!
No comments:
Post a Comment