শেষবার
গত ডিসেম্বরের শেষ বিকেলে
মাকে বিদায় জানাতে গিয়ে
বলেছিলাম-"আমৃত্যু ভারত-মায়ের
সেবার সুযোগ পেয়েছি। মা, এবার
হাসিমুখে বিদায় দাও, আমায়--
সাহস দাও, শক্তি দাও..."
ছিটেফোঁটা অশ্রু চোখে নিয়ে ঘা-মাখা হাত তুলে
মা বলেছিল-"খোকন, যাচ্ছিস যা, রক্ত দিয়ে হলেও
মাটির ঋণ শোধ করে আসবি!"
১৪ই ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ভ্যালেন্টাইনস ডে,
রাধা-কৃষ্ণের প্রেম দিয়ে গড়া ভারতের--
ইতিহাসে ব্ল্যাক ডে নামে পরিচিতি পেল।
সারা দেশ জুড়ে পূলবামা হামলার খবর,
৪২ জন ভারত-সন্তানের বলীদান!
দেশজুড়ে শুরু হল শোকাহত জনতার
ক্ষনিকের সার্জিকাল স্ট্রাইক,
টেলিভিশনের পর্দায় ব্রেকিং নিউজ-
হেডলাইন-"৪২ এর বলীদান",
নেতাদের পাক-বিরোধী মন্তব্য,
আরও কত কি...
১৬ই ফেব্রুয়ারী, শহীদ খোকনের
দেহ শেষবারের মতো দেখতে পেল,
তার দশ মাস দশ দিন গর্ভধারিনী বৃদ্ধা মা।
খোকনের মা কাঁদেনি, না কাঁদছে না!
খোকনের হাতে সে যে তুলে দিয়েছিল
ভারত-মায়ের দায়িত্ব, সে তো বলেছিল
রক্ত দিয়ে ঋণ শোধ করতে!
"খোকন পেরেছে, হ্যাঁ আমার খোকন পেরেছে,
আমার খোকন রক্ত দিয়েছে, প্রাণ দিয়েছে মায়ের জন্য!
আমি কাঁদব না, আমি কাঁদলে যে
লোকে হাসবে আমার ওপর,
জওয়ান খোকনের মা ভীতু, একটুতেই
কেঁদে ফেলে বলে মজা করবে,
না না! আমি কাঁদব না! দ্যাখ খোকন
এইতো আমি হাসছি, আমি হাসছি..."
১৭ই ফেব্রুয়ারী, খোকনের বাড়িতে টেলিগ্রাম এল,
খোকনের শেষলেখা ডায়েরিটা পাওয়া গেছে।
ডায়েরির শেষ পাতায় সে লিখেছে--
"মাটির গন্ধ বেশ ভালো, জানো মা!
পরের জন্মে, এই মাটিতেই তোমার কোলে জন্ম নেব,
এবার ভারত-মায়ের ঋণ টা শোধ করলাম!
পরের জন্মে, তোমার ঋণ শোধ করব!"
No comments:
Post a Comment