তীব্র আঘাত হানো
বরফের গায়ে কেবল হাত বুলিয়ে দিন
কাটেনা ;
দেশে দেশে ঘুরেও দিন কাটেনা
!
অসম্ভব সৌন্দর্য্যের ভয়ংকরে
মণ ছুঁইয়ে
প্রকৃতির কোলে অগুনিত
মৃত্যুফাঁদ নিয়ে
জীবনপণ বিদেশী শত্রুর
আগ্রাসন রোখার নিবিষ্ট
ভারতমাতার বীর যোদ্ধার এটাই
রোজ নামচা !
বহু দূরে বাবা মা, স্ত্রী
পুত্র, কেবল চিঠিপত্রে ফোনে ;
সারাক্ষণ ভাবনা, বেঁচে আছে
তো ?
সময়ের উৎকণ্ঠায় দিন কাটে,
আকুতি একটাই –
হে ঈশ্বর, ওঁকে বাঁচিয়ে রাখো
!
আর দেশমাতার সম্মান রক্ষার
তেরঙ্গা ঝান্ডা
কার্গিল- লেহ – লাদাখ –
নাথুলা কিম্বা আরও উঁচোয়
সাদা চাদর পাতা শৈলচূড়োয়
উন্নত মস্তকে পতপত করে
সগর্বে ওড়ে,
বলে, দেখো, আমি ভারতবর্ষের
স্বাধীন সত্বা ,
আমি তোমাদের প্রাণভোমরা !
সেই সাথে ভারতবর্ষের আপামর
জনসাধারণ –
আমরা, অনায়াসে শৈলশিখরে
ভ্রমণ করি ;
বরফ ছুঁয়ে খেলা করি ;
সুখ দুখে পরিবারের সাথে
আনন্দে থাকি ;
নিশ্চিন্ত নির্ভয় বেঁচে থাকি
! কারণ –
জীবনপণ রেখে আমাদের রক্ষা করে
আমাদের দেশরক্ষক বীর সেনা !
অথচ তাঁদের অসম্মান, তাঁদের
অসময়ে মৃত্যু
আমাদের মনে খুব একটা দাগ
কাটে না !
আমরা কেবল হাতের আঙুল
কামড়িয়ে
কালো ব্যাজ লাগিয়ে
মোমবাতি জ্বেলে পথে পথে
হাঁটি !
ব্যাস, কর্তব্য শেষ !
মনে আমাদের গর্বিত ভাবনা –
ওঁদের জন্য অনেক হলো, যথেষ্ট
!
আমাদের বীর সেনাদের উপর,
বারবার এসেছে আঘাত ;
ঘরের শত্রুর হাত ধরে এগিয়ে
এসেছে
অকাল মৃত্যুরূপী পরদেশ
আগ্রাসী সন্ত্রাসী !
আর রাজনীতির টেবিলে
শান্তি আলোচনার ঘোলা জল আরও
অস্বচ্ছ হয়েছে ।
দেশের সব বিভীষণ মীরজাফর
একাকার হয়ে
ঘৃণ্য রাজনীতির পাশাখেলায়
আখের গুছিয়েছে ।
অতীতের সেই একই ছবি দেখছি
বারবার –
দেখছি আবার নতুনকরে আতর্কিত
হত্যালীলা ;
আবার বীর জওয়ানের তাজা রক্তে
রাঙা হলো
ভূস্বর্গ কাশ্মীর !
দেখছি মেকি দেশ-হিতৈষীর
ধান্দাবাজ হুংকার !
আজ দেশবাসীর তীব্র ক্ষোভে
উত্তাল আন্দোলন –
আপন দেশকে যারা পরদেশ ভাবে ;
পরের দেশকে যারা আপন ভাবে –
তাদের আজ চেনার সময় এসেছে !
সেইসব দেশদ্রোহীর উপর তীব্র
আঘাত হানো !
উপড়ে ফেলো সমূলে সন্ত্রাসী
মহীরুহ !
লজ্জায় অবনত হতে দিও না
ভারতমাতার শির !
No comments:
Post a Comment