Sunday, March 31, 2019

কবিতা - আশুতোষ রায়


তীব্র আঘাত হানো

বরফের গায়ে কেবল হাত বুলিয়ে দিন কাটেনা ;
দেশে দেশে ঘুরেও দিন কাটেনা !
অসম্ভব সৌন্দর্য্যের ভয়ংকরে মণ ছুঁইয়ে
প্রকৃতির কোলে অগুনিত মৃত্যুফাঁদ নিয়ে
জীবনপণ বিদেশী শত্রুর আগ্রাসন রোখার নিবিষ্ট
ভারতমাতার বীর যোদ্ধার এটাই রোজ নামচা !
বহু দূরে বাবা মা, স্ত্রী পুত্র, কেবল চিঠিপত্রে ফোনে ;
সারাক্ষণ ভাবনা, বেঁচে আছে তো ?
সময়ের উৎকণ্ঠায় দিন কাটে, আকুতি একটাই –
হে ঈশ্বর, ওঁকে বাঁচিয়ে রাখো !

আর দেশমাতার সম্মান রক্ষার তেরঙ্গা ঝান্ডা
কার্গিল- লেহ – লাদাখ – নাথুলা কিম্বা আরও উঁচোয়
সাদা চাদর পাতা শৈলচূড়োয়
উন্নত মস্তকে পতপত করে সগর্বে ওড়ে,
বলে, দেখো, আমি ভারতবর্ষের স্বাধীন সত্বা ,
আমি তোমাদের প্রাণভোমরা !

সেই সাথে ভারতবর্ষের আপামর জনসাধারণ –
আমরা, অনায়াসে শৈলশিখরে ভ্রমণ করি ;
বরফ ছুঁয়ে খেলা করি ;
সুখ দুখে পরিবারের সাথে আনন্দে থাকি ;
নিশ্চিন্ত নির্ভয় বেঁচে থাকি ! কারণ –
জীবনপণ রেখে আমাদের রক্ষা করে
আমাদের দেশরক্ষক বীর সেনা !
অথচ তাঁদের অসম্মান, তাঁদের অসময়ে মৃত্যু
আমাদের মনে খুব একটা দাগ কাটে না !
আমরা কেবল হাতের আঙুল কামড়িয়ে
কালো ব্যাজ লাগিয়ে
মোমবাতি জ্বেলে পথে পথে হাঁটি !
ব্যাস, কর্তব্য শেষ !
মনে আমাদের গর্বিত ভাবনা –
ওঁদের জন্য অনেক হলো, যথেষ্ট !

আমাদের বীর সেনাদের উপর,
বারবার এসেছে আঘাত ;
ঘরের শত্রুর হাত ধরে এগিয়ে এসেছে
অকাল মৃত্যুরূপী পরদেশ আগ্রাসী সন্ত্রাসী !
আর রাজনীতির টেবিলে
শান্তি আলোচনার ঘোলা জল আরও অস্বচ্ছ হয়েছে ।
দেশের সব বিভীষণ মীরজাফর একাকার হয়ে
ঘৃণ্য রাজনীতির পাশাখেলায় আখের গুছিয়েছে ।
অতীতের সেই একই ছবি দেখছি বারবার –
দেখছি আবার নতুনকরে আতর্কিত হত্যালীলা ;
আবার বীর জওয়ানের তাজা রক্তে রাঙা হলো
ভূস্বর্গ কাশ্মীর !
দেখছি মেকি দেশ-হিতৈষীর ধান্দাবাজ হুংকার !

আজ দেশবাসীর তীব্র ক্ষোভে উত্তাল আন্দোলন –
আপন দেশকে যারা পরদেশ ভাবে ;
পরের দেশকে যারা আপন ভাবে –
তাদের আজ চেনার সময় এসেছে !
সেইসব দেশদ্রোহীর উপর তীব্র আঘাত হানো !
উপড়ে ফেলো সমূলে সন্ত্রাসী মহীরুহ !
লজ্জায় অবনত হতে দিও না ভারতমাতার শির !

No comments:

Post a Comment