আমরা করব জয়
আজ গোলাপের গায়ে রক্ত এসে লেগেছে
। আজ কান্নায় বদলে গেছে দেশের সবকটা নদী । মাইনাস ডিগ্রির অনেক নীচে নেমে যাওয়া তাপমাত্রার
ভিতর যাঁরা অতন্দ্র দাঁড়িয়ে থাকেন, বাবা-মা-স্ত্রী-সন্তানকে ছেড়ে দিনের পর দিন, রাতের
পর রাত দাঁড়িয়ে থাকেন, আর থাকেন বলেই আমি-আপনি ঘুমোতে পারি নিশ্চিন্তে, আলোচনা করতে
পারি, গান-কবিতা-সিনেমা নিয়ে, অটোগ্রাফ দিতে ও নিতে পারি, আজ তাঁদের প্রায় পঞ্চাশজন
খুন হয়েছেন, (জানি না শেষ অবধি সংখ্যাটা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে) ।
এবার হোয়াটঅ্যাবাউটারির খেলা
শুরু হবে । পুলওয়ামায় পাকিস্তানের মদতপুষ্ট,
চিনের আশীর্বাদধন্য জঙ্গীদের হাতে খুন হওয়া সৈন্যদের দুঃখে দান্তেওয়াড়ায় ভারতীয় সৈন্যদের নির্বিচারে খুন করা
জঙ্গীদের উকিলরা কুম্ভীরাশ্রু বিসর্জন করবেন। আরও বড় মাথারা, আফজল গুরু আর আজমল কাসভের বেদনায় কাতর হায়েনাধিকারওয়ালারা গর্তে ঘাপটি মেরে
থাকবে কয়েকদিন, নয়তো এই নৃশংসতার জন্য ভারত সরকারকেই দায়ী করবে ঘুরিয়ে। করবে কারণ,
চিন এবং পাকিস্তান নিয়ে ওদের কোনও অসুবিধে নেই। হিন্দু মুসলমান নির্বিশেষে তিরিশ লাখের
বেশি বাঙালিকে হত্যা করা পাক সেনাবাহিনীর কোনও অত্যাচারের কথা আপনি কোনওদিন শুনেছেন,
অরুন্ধতী রায়'দের মুখে? কেন শোনেননি ?
গত পঞ্চাশবছর ভারতের যে প্রধানমন্ত্রী যখন অরুণাচল
প্রদেশে যান, (তাঁর নাম, ইন্দিরা গান্ধী, রাজীব গান্ধী, অটলবিহারী বাজপেয়ী, মনমোহন
সিংহ কিংবা নরেন্দ্র মোদী, যাই হোক না কেন), তারস্বরে চিৎকার শুরু করে চিন, অরুণাচলকে
নিজেদের অংশ দাবি করে! কোনওদিন চিনের মানসপুত্রদের প্রতিবাদ করতে শুনেছেন তার ?
শুনবেন না। যে মৌলানা মাসুদ আজহারকে
'সন্ত্রাসবাদী' বলে ঘোষণা করতে দিচ্ছে না চিন, সেই আজহার যে আজকের ভারতীয় সেনার হত্যাকাণ্ডের
পিছনে নেই, কে বলবে? চিনের কোনও সমালোচনা শুনেছেন, 'সহিষ্ণু' সাংস্কৃতিক জারদের মুখে
?
শুনবেন না। এদের সমস্যা বিরাট
কোহলির ঔদ্ধত্য নিয়ে, কারণ বিরাট ভারতকে জেতায়। আন্তর্জাতিক বেটিং চক্রের সঙ্গে জড়িত
থাকার অভিযোগে বহিষ্কৃত আজহারউদ্দিনকে নিয়ে কোনও সমস্যা থাকার কথা নয় তো। নেইও।
কাশ্মীরে থাকা বিলাল আমাদের তিরিশ
বছর ধরে শাল-সোয়েটার দেয়। পাঁচদিন আগে যখন এই বছরের শেষ ইনস্টলমেন্টটা নিতে এসেছিল,
সেই এক প্রশ্নটা করলাম, "কাশ্মীরীরা সবাই ভারত থেকে আলাদা হতে চায়?"
একই উত্তর দিল বিলাল, "একবার
কয়েকজনের পাল্লায় পড়ে শাল-সোয়েটার বেচতে পাকিস্তান গিয়েছিলাম।কলকাতায় যা ব্যবসা হয়,
তার পাঁচভাগের একভাগ ব্যবসা হয়নি। আবার মরতে যাব ওখানে?"
আপনার পাড়ায় যে শালওয়ালা ঘুরছে,
তাকে জিজ্ঞেস করে দেখুন, এক উত্তর পাবেন। একই উত্তর পাবেন, জঙ্গীদের হাতে খুন হওয়া ঔরংজেব, গওহর আহমেদ ভাট, আয়ুব ভাটের পরিবারের থেকেও।
এবছর ভারতের 'আই লিগ' জিততেও পারে যারা, সেই রিয়াল কাশ্মীরের ফুটবলাররাও আলাদা কিছু
বলবে না সম্ভবত ।
কিন্তু মাওতীর্থ এবং মরুতীর্থ
স্পন্সর্ড নেটওয়ার্ক সেই কথা জানতেই দেবে না আপনাকে। কোনও জঙ্গী সিম্প্যাথাইজারের কোমরে
দড়ি পড়লে রাতের ঘুম উড়ে যায় যাদের আজ তারা পঞ্চাশজন সৈনিকের মৃত্যুতে একটি কথাও বলবে
না, যতক্ষণ না পাকিস্তানকে নির্দোষ প্রমাণ করার মতো কিছু পাচ্ছে ।
আমার বেশ কিছু পাকিস্তানি বন্ধু আছে । তারা কেউ আমেরিকায়
ট্যাক্সি চালায় কেউ বা হোটেল। লেখালিখিও করে কয়েকজন। প্রায় সবাই ব্যক্তিগত আলোচনায় মেনে নেয় যে পাকিস্তান আসলে একটা
দেশ নয়, একটা 'ভাবধারা'। 'ভারতকে ধ্বংস করতেই হবে', এই ভাবধারা ।
সেই ভাবধারার বিরুদ্ধে লড়াই মানে
পাকিস্তানের সাধারণ নাগরিকের বিরুদ্ধে লড়াই নয়। একটা 'অভিশাপ'এর বিরুদ্ধে লড়াই।
এ দেশে সেই লড়াইটা যখন যে সরকার
লড়তে যাক, জেনারেল ইয়াহিয়া কিংবা জিয়ার মুখপাত্ররা
চিৎকার করতে শুরু করবে, 'নজরদারি' হচ্ছে, 'প্রাইভেসি' নষ্ট হচ্ছে; আর তারপর 'উরি' কিংবা
'পুলওয়ামা' ঘটলেই 'ইন্টেলিজেন্স ব্যর্থতা' বলে হাত ধুয়ে ফেলতে চাইবে ।
কিন্তু রক্ত ধুয়ে ফেলা যায় না।
বিশেষ করে তা যদি পরিবারের হয়। আজ যারা আপনি নিজের দেশের হয়ে কিছু বলতে উঠলে 'দাগিয়ে
দিচ্ছে' , 'থামিয়ে দিচ্ছে', কাল তারা আপনাকে আপনার বাবা-মা, কিংবা সন্তানের মৃত্যুতে
কাঁদতে পর্যন্ত দেবে না।
আজ রাতটা কাঁদুন। আর কাঁদতে কাঁদতেই
লড়াইটা শুরু করুন। পাকিস্তান নামক একটা 'ভাবধারা'র সঙ্গে। একটা 'অভিশাপ'এর সঙ্গে ।
পুনশ্চঃ সেই অভিশাপের থাবা থেকে
আপনাকে-আমাকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ বলিদান দেওয়া প্রত্যেকটি জওয়ানকে প্রণাম । যারা আমাদের
খুন করে, তারাই আবার আমাদের মৃত্যুভয়টাও কাটিয়ে
দেয় ।
উই শ্যাল ওভারকাম। উই মাস্ট ।
No comments:
Post a Comment