Sunday, March 31, 2019

মুক্তগদ্য - ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ ও জঙ্গি হামলা



ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে এ অব্দি ৪টি যুদ্ধ সংগঠিত হয়েছে ।

ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ ১৯৪৭ –  

প্রথম ভারত পাকিস্তান যুদ্ধ বা প্রথম কাশ্মীর যুদ্ধ বলা হয়ে থাকে । দেশীয় রাজা শাসিত কাশ্মীরের মালিকানা নিয়ে এই যুদ্ধ বাধে । ২১শে অক্টোবর ১৯৪৭ থেকে ৩১ শে ডিসেম্বর ১৯৪৮ এই যুদ্ধের সময়কাল ।
জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি ঘটে । এই যুদ্ধের ফলে জম্মু ও কাশ্মীরে দেশীয় রাজ্যের অবসান ঘটে এবং পাকিস্তান কাশ্মীরের এক-তৃতীয়াংশ এবং ভারত বাকি অংশের মালিকানা পায় । লাইন অফ কন্ট্রোল জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যকে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বিভক্ত করে। ভারত জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যের (১,০১,৩৮৭ বর্গ কি.মি.) নিয়ন্ত্রণ লাভ করে, এবং পাকিস্তান আজাদ কাশ্মীর (১৩,৩৯৭ বর্গ কি.মি.) ও গিলগিত-বালতিস্তান (৭২,৪৯৫ বর্গ কি.মি.) অঞ্চলদ্বয়ের ওপর নিয়ন্ত্রণ লাভ করে ।
এই যুদ্ধে ভারতের প্রায় ১৫০০ সৈন্য নিহত এবং ৩৫০০ সৈন্য আহত হয় এবং পাকিস্তান ও আজাদ কাশ্মীরের ৬০০০ সৈন্য নিহত এবং ১৪০০০ সৈন্য আহত হয় ।


ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ ১৯৬৫ –  

কচ্ছ মরু অঞ্চলের অধিকার নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দ্বিতীয় যুদ্ধ সংগঠিত হয় । ৫ই আগস্ট থেকে ২৩শে সেপ্টেম্বর ১৯৬৫ এই যুদ্ধের সময়কাল । এই যুদ্ধে ভারতের ৭,০০,০০০ পদাতিক সৈন্য, ৭২০টি ট্যাঙ্ক , ৬২৮ টি আটিলার পিস এবং ৬৯০ টি যুদ্ধ বিমান নিযুক্ত হয় । যুদ্ধ শেষে ভারতের ৩০০০ এবং পাকিস্তানের ৩৫৫০ জন সেনা নিহত হয় ।


ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ ১৯৭১ –  

পূর্ব পাকিস্তানের অধিকার নিয়ে এই যুদ্ধ সংগঠিত হয় এবং যুদ্ধ শেষে পাকিস্তান সরকারের কাছ থেকে বিছিন্ন হয়ে স্বাধীন রাষ্ট্র রূপে বাংলাদেশ আত্মপ্রকাশ করে । এই যুদ্ধে ভারতীয় সেনা ও বাংলাদেশী মুক্তিযোদ্ধা মিলিয়ে প্রায় ৩৮৪৩ জন নিহত হয় এবং পাকিস্তানি সেনা ৯০০০ জন নিহত হয় ।


ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ ১৯৯৯ –  

পাক সেনা এবং বিছিন্নতাবাদী জঙ্গি সংগঠন লাইন অব কন্ট্রোল অতিক্রম করে ভারতে ঢোকার চেষ্টা করলে এই যুদ্ধ বাধে যা কার্গিল যুদ্ধ নামেও পরিচিত । ১৯৯৯ সালের মে-জুলাই মাসে এই যুদ্ধ চলে । ভারতের প্রায় ৫০০০ জন এবং পাকিস্তানের প্রায় ৪০০০ সৈন্য নিহত হয় । রাশিয়া ও আমেরিকার মধ্যস্থতায় পাক সেনা অধিকৃত কাশ্মীর থেকে সেনা সরিয়ে পিছু হটলে যুদ্ধ বিরতি ঘোষণা হয় ।


টেরিরিস্ট আট্যাক কাশ্মীর –

স্বাধীনতার পর থেকেই কাশ্মীর উপত্যকা একাধিক হত্যাকাণ্ডের রক্তলীলায় লাল হয়েছে । গত ২০ বছর অর্থাৎ ২০০০ সালের পর থেকে এই শতাব্দীতেই মারা গেছে শতাধিক স্থানীয় মানুষ ও ভারতীয় সেনা । উল্লেখযোগ্য কয়েকটি জঙ্গি হামলা, স্থানীয় আক্রমণ ও ভারতীয় সেনার আক্রমণের বিবরণ তুলে দেওয়া হল

চিত্তিসিংহপুরা হত্যাকান্ড – ২০০০ সালের ২০শে মার্চ অনন্তনাগ জেলার চিত্তিসিংহপুরায় প্রায় ৩৫ জন শিখকে গুলি করে হত্যা করা হয় । এই হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী লস্কর-ই-তৈবা নামক জঙ্গি সংগঠন । 

অমরনাথ হত্যাকাণ্ড – ২০০০ সালের ১লা এবং ২রা আগস্ট অনন্তনাগ এবং দোদা জেলায় প্রায় ৮৯ জন তীর্থযাত্রীকে হত্যা করা হয় ।

কিশতার হত্যাকাণ্ড – ২০০১ সালের ৩রা আগস্ট কিশতার এবং দোদা জেলায় ১৭ জন হিন্দু গ্রামবাসীকে হত্যা করা হয় । এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত লস্কর-ই-তৈবা নামক জঙ্গি সংগঠন । 

চালয়ালকোট হত্যাকান্ড – ২০০১ সালের ৯ই ফেব্রুয়ারি রাজৌরি জেলায় জঙ্গি ও সেনা লড়াইয়ে ১৫ জন মুসলিম গ্রামবাসী নিহত হয় ।

কাশিম নগর হত্যাকাণ্ড – ২০০২ সালের ১৩ই জুলাই জম্মুর কাশিম নগরে বিচ্ছিনতাবাদী মুসলিম সংগঠন দ্বারা ২৯ জন হিন্দু শ্রমিককে হত্যা করা হয় ।

কালুচক হত্যাকান্ড – ২০০২ সালের ১৪ই মে হিমাচলের কালুচকে একটি টুরিস্ট বাসে জঙ্গি হানার ফলে ৭ জনের মৃত্যু ঘটে । জড়িত লস্কর-ই-তৈবা নামক জঙ্গি সংগঠন ।

নাদিমার্গ হত্যাকাণ্ড – ২০০৩ সালের ২৩শে মার্চ পুলওয়ামা জেলার নাদিমার্গে অজ্ঞাত পরিচয় জঙ্গি সংগঠন দ্বারা ২৪ জন কাশ্মীরি হিন্দু পণ্ডিতকে হত্যা করা হয় ।

তেলিকোটা হত্যাকাণ্ড – ২০০৪ সালের ২৬শে জুন পুঞ্চ জেলায় ১২ জন গুর্জর মুসলিমকে কাশ্মীরি সেনা হত্যা করে ।

দোদা হত্যাকান্ড – ২০০৬ এর ৩০শে এপ্রিল দোদা জেলায় জঙ্গি হামলায় ৩৫ জন হিন্দু নাগরিককে হত্যা করা হয় ।

কাশ্মীর ভ্যালি আট্যাক – ২০১৪ সালের ৫ই ডিসেম্বর কাশ্মীর ভ্যালির সোপিয়ান, উরি এবং পুলওয়ামা প্রভৃতি একাধিক জায়গায় বিচ্ছিন্ন জঙ্গি আক্রমনে প্রায় ২৩ জন মানুষ নিহত হয় । এক্ষেত্রেও লস্কর-ই-তৈবার নাম জড়িত ।

বুরহান বদলা – বুরহান ওহানি হত্যার পর থেকে কাশ্মীর উপত্যাকায় একাধিক আক্রমণ হয় । প্রায় ১২০ জন স্থানীয় বাসিন্দা ও সেনা নিহত হয় ।

উরি আট্যাক – ২০১৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর সেনা ছাউনিতে জঙ্গি আক্রমণ হলে ১৯ জন ভারতীয় সেনা ও ৪জন জঙ্গি নিহত হয় । জৈইশ-ই-মহম্মদ নামক জঙ্গি সংগঠন এর জন্য দায়ী করা হয় ।

সঞ্জুয়ান আট্যাক – ২০১৮ সালের ১০ই ফেব্রুয়ারি জৈইশ-ই-মহম্মদ  জঙ্গি সংগঠন ভারতীয় সেনা ছাউনি আক্রমণ করলে ১১ জন জওয়ানের মৃত্যু হয় ।

পুলওয়ামা অ্যাটাক – সম্প্রতিতম ২০১৯ সালের ১৪ই ফেব্রুয়ারি সুইসাইড বম্বের আঘাতে পুলওয়ামায় সি আর পি এফ কনভয়ে বিস্ফোরণে ৪২ জন জওয়ানের মৃত্যু হয় । এই আক্রমণের দায় স্বীকার করে জৈইশ-ই-মহম্মদ নামক জঙ্গি সংগঠন ।  


তথ্যসূত্র – উইকিপিডিয়া, ইন্টারনেট ।  




1 comment: