Sunday, March 31, 2019

গল্প - শিবনাথ দত্ত


 রামধনুর অপমৃত্যু 

দুহাজার উনিশ সালের চোদ্দই ফেব্রুয়ারি... 

মেয়েটা সারাদিন  সাদা কাপড়টার উপরে নানা রঙের সুতোর কাজ চালাচ্ছিল । স্নান খাওয়া কোনোদিকে নজর ছিল না । ওর মা বলছিল, “উত্তরা মা, পোয়াতি মেয়েমানুষ হয়ে এত সেলাইয়ের কাজ করিস না । দুটো খাওয়াদাওয়া করে রোদে গিয়ে বোস ।"
সময়টা শীতের হলেও উত্তরার মনে বসন্তের উদাস হাওয়া দোলা দিচ্ছিল । আর কানদুটো আকুল হয়ে ছিল - কোকিলের ডাক কখন বাজবে ?  হ্যাঁ, অভিমন্যু ফোন করলে ওই রিংটোনই বাজত ওর ।
বেলা শেষ হয়ে রাত্রি এসেছিল ।  অভিমন্যুর জন্যে বুনতে বুনতে থাকা রুমালটার উপর রামধনুর সাতটা রঙ্গের সাতটা লাভ চিহ্ন দিয়ে ইংরেজি A লেখার কল্পনায় আকুল হয়ে উঠছিল ।
গভীর রাতেও সাতরংএর সাতটা লাভ চিহ্ন দিয়ে A কী করে হবে, সেটা ভেবে পায়নি ও । অথচ পরিশ্রমে খামতি ছিল না ।


পুরো এক বছর পর বাড়ির পাশে বিশাল জনসভায় এলাকার বিধায়ক ভাষণ দিচ্ছিলেন,”বন্ধুগণ, আজ চোদ্দই ফেব্রুয়ারি । ভালোবাসা দিবস বলে আমরা যেন কেউ আনন্দে মেতে না উঠি । আজ থেকে একবছর আগে আজকের এইদিনে পাক জঙ্গি হামলায় ভূস্বর্গ কাশ্মীরে যে তাজা তাজা প্রাণ অকালে নষ্ট হয়েছিল,  তাঁদের আত্মত্যাগকে যেন আমরা না ভুলি... আমরা গর্বিত যে আমাদের এই গ্রামের আমাদের পরিচিত ছেলে অভিমন্যু দেশের মানুষকে বাঁচাতে বীরের মত জীবন বিসর্জন দিয়েছেন... আমরা তাঁর স্মৃতির প্রতি অকৃত্রিম শ্রদ্ধা জানাই...  শহীদ স্মরণে আপন মরণে রক্তঋণ শোধ করো...বন্দে মাতরম...  জয় হিন্দ...  ইনক্লাব জিন্দাবাদ... "


দুহাজার কুড়ি সালের চোদ্দই ফেব্রুয়ারি ...

 আজ উত্তরা সেই ছুঁচ সুতো নিয়ে বসে চিন্তা করছে- কি করে সাতটা লাভ দিযে A লেখা হবে ? মুখে পাগলের মত কখনো হাসি, কখনো কান্না আর অবিরাম প্রলাপ লেগে আছে ।
 ওর মা চোখের জল মুছতে মুছতে বলল,” হতভাগী মেয়েটার কপালে এই ছিল !”
ওর কাকিমা বলল, “ গর্ভের বাচ্চা টা তবু যদি বাঁচতো, মেয়েটা পাগল হতো না..”
 বিধবা উত্তরা তখনও মেলাতে পারছে না- রামধনুর সাতটি রঙের সাতটা লাভ চিহ্ন দিয়ে কী করে লেখা হবে অভিমুন্য নামের প্রথম অক্ষর !...

1 comment:

  1. দারুন লাগলো,অনেকটা বাস্তবিক।

    ReplyDelete