সাপ
রান্নাঘরে রুটি করছিল মঞ্জুলা । আজকাল বিকেল
বিকেলই রাত্রের রুটি তরকারিটা করে রাখে সে । ফলে আয়েস করে টিভির সিরিয়ালগুলো দেখা
যায় ।
যদিও ঠান্ডা খাবার নিয়ে মাঝেমধ্যেই অনুযোগ করে
তপন, তবে মঞ্জুলা তাতে খুব একটা কান দেয় না ।
বাড়িতে বাজার খুব একটা নেই আর । বড়োজোর কাল
সকাল পর্যন্ত চলবে । গতবছর লকডাউন থেকেই এটা নিয়মে দাঁড়িয়ে গেছে তপনের, সপ্তাহে
একদিন বাজার । কালই তপনকে বাজারে পাঠাতে হবে । আপাতত আজ রাতটা কুমড়োর তরকারি দিয়েই
চালিয়ে নিতে হবে, মঞ্জুলা ভাবছিল ।
ঠিক সেই সময় চিৎকারটা শুনতে পেল সে । “সাপ,
সাপ” বলে বাইরে চেঁচিয়ে উঠেছে কেউ । কোনরকমে গ্যাসটা নিভিয়ে দিয়ে একদৌড়ে উঠোনে
বেরিয়ে এসে মঞ্জুলা দেখল, বাইরে বেশ লোক জড়ো হয়ে গেছে । পাশের বাড়িটাই পালেদের ।
ভিড়টা ওদের বারান্দার সামনে । তার মানে ওখানেই কিছু ঘটেছে । ভিড়ের মধ্যে দু-একজনের
হাতে লাঠিও আছে । সবাই মিলে কৌতূহলী চোখে পালেদের বারান্দায় উঁকিঝুঁকি মারছে ।
তাহলে কি বারান্দায় সাপ ঢুকেছে নাকি ? সেটা অসম্ভব কিছু নয় । সামনের চলনরাস্তার
উল্টোদিকেই একটা পাঁচিলঘেরা বাগান আছে সামন্তদের । যত রাজ্যের আগাছায় ভরা । সেখান
থেকে আসতেই পারে । কিন্তু এই ভরা বিকেলে ? কে জানে ! তবে এটাও ঠিক, ওরা তো আর
মানুষের মতো সকাল বিকেল বোঝে না!
কিছুক্ষণের মধ্যেই সাপটাকে আবিষ্কার করে ফেলল
ওরা । এমন কিছু বিষধর সাপ নয় । এত মানুষের সাড়া পেয়ে ভয়েই আধমরা হয়ে গিয়েছিল । তবু
নির্দয়ের মতো তাকে লাঠিপেটা করে মেরে ফেলা হল । সবাই বলাবলি করল, পোড়াতে হবে ।
নাহলে আবার বেঁচে যাবে ওটা । তাই কাগজ জ্বেলে রাস্তার ওপরেই সাপটাকে পুড়িয়ে ফেলা
হল ।
মঞ্জুলা এই পোড়ানোটা দেখতে পারেনি । তার আগেই
ঘরে চলে এসেছিল । এসব ও দেখতে পারে না । সন্ধেবেলা টিভি দেখতে দেখতে ভাবছিল, কখন
তপন অফিস থেকে ফিরবে, আর ও তাকে কান্ডটা শোনাবে ।
রাত ন’টা নাগাদ তপন ফিরল । বলল, পেটটা ভার আছে,
আজ আর খাবে না । একটু অবাকই হল মঞ্জুলা । এরকম তো খুব একটা করে না তপন ! যদিও গত
মাসখানেক যাবৎ তপনের কিছু কিছু আচরণে মঞ্জুলা অবাক হচ্ছে । একটু যেন অন্যরকম, একটু
যেন অস্বাভাবিক । কিন্তু রাত্রে খায়নি, এমন তো কখনও হয়নি !
তপন বাথরুমে ঢুকতেই মঞ্জুলা তপনের ফোনটা হাতে
তুলে নিল । পাসওয়ার্ড জানাই ছিল । খুলে এদিক ওদিক দেখতে দেখতেই একটা ঝাঁকি ।
হোয়াটস্অ্যাপে একটা মেসেজ । তপন বোধহয় উত্তেজনার মাথায় ডিলিট করতে ভুলে গেছে ।
মানসীর মেসেজ । তপনের অফিস কলিগ । আজ সন্ধের পর সাউথ সিটি মলে দেখা করার আমন্ত্রণ
।
মঞ্জুলা ফোনটা হাতে নিয়ে পাথরের মতো দাঁড়িয়ে
ছিল । ওর মনে হচ্ছিল, পালেদের বাড়িতে নয়, একটা বিষধর সাপ ওর ঘরেই এসে ঢুকে পড়েছে
ওর অলক্ষ্যে ।
No comments:
Post a Comment