ফেরা
জানলার চৌকোফ্রেমে বাঁধা আকাশে তখন থেকে একাকী এক চিল চক্কর মারছে । আধভাঙা তক্তাপোষে শুয়ে সেটাই দেখে যাচ্ছে মাধবী । অনাবৃত নারীদেহে সজোরে পুরুষত্বটুকু ঢেলে দিতে দিতে অবনী খেয়ালও করছে না মাধবীর আপাত নিরাসক্তিটুকু । দু'বছরের সম্পর্ক ওদের, অবৈধ অথবা পরকীয়া, সংজ্ঞাটুকু জানা নেই কারোরই । বিয়ের দুবছরের মাথায় বিধবা হয়ে শ্বশুরবাড়িতেই গলগ্রহ মাধবীর জীবনে অকালবসন্ত এনেছিল বাড়ির ভাড়াটে অবনী । দুজনেই বুভুক্ষু, আদরের কাঙাল । অবনীর বিবাহবিচ্ছেদের মামলা চলছিল । মাধবীকে কথা দিয়েছিল আইনী বিচ্ছেদ হলেই বিয়ে করবে । মাধবীও আঁকড়ে ধরেছিল অবনীকে । সবটুকু উজার করে দিয়ে পেতে চেয়েছিল নিজের পুরুষটিকে । আজ শুনল, আত্মীয়দের মধ্যস্থতায় মিটমাট হয়ে গেছে, অবনীর বউ ঘরে ফিরছে । অবনীর হাতের চাপে রথের মেলা থেকে কেনা কাঁচের চুড়িটা ভেঙে হাতে ফুটতেই সম্বিত ফিরল মাধবীর। চিলটা এরমধ্যে উড়ে গেছে নিজের গন্তব্যে ।
চিলেকোঠার নির্জনতায় সিক্ত মাধবী চৌকাঠ পার হয়ে আবার ফিরে এল প্রাত্যহিক একাকী জীবনের রোজনামচায়, পিছনে পড়ে রইল কাঁচের চুড়ি আর বিশ্বাসের ভাঙ্গা টুকরোগুলো ।
No comments:
Post a Comment