Wednesday, May 26, 2021

অণুগল্প - অমিত কুমার জানা


 জন্মদিন


    মা উচ্চঃস্বরে ডাকছে' "এবার উঠে পড়, আর ঘুমাতে হবে না।  আজ তোর জন্মদিন যে খেয়াল আছে ? ওঠ তোর জন্য পায়েস করেছি। খেয়ে মাঠে যেতে হবে,আবার ফিরে এসে স্কুলে যেতে হবে তো ।" 

    ভোরের মিষ্টি নিদ্রার আলিঙ্গন থেকে কোনদিনই স্বেচ্ছামুক্তি চায়নি সুদীপ। মায়ের মুহুর্মুহু উচ্চঃস্বরে উচ্চস্বরে শেষপর্যন্ত নিদ্রাভঙ্গ হলো তার। তবে সে স্বপ্নই দেখছিল এতক্ষণ। 

    আট বৎসর পূর্বে সুদীপ তার ক্যান্সার আক্রান্ত মাকে হারিয়েছে। তার দু'চোখ বেয়ে অশ্রুধারা নেমে এলো । দেওয়ালে টাঙানো ঘড়িটার দিকে নজর পড়তেই তার নিত্যনৈমিত্তিক ব্যস্ততা শুরু হয়ে গেল । নটা বেজে গেছে । দ্রুততার সঙ্গে স্নান, প্রাতরাশ সেরে কলেজের জন্য রওনা দিল। সে খড়্গপুর কলেজের পদার্থ বিজ্ঞানের অধ্যাপক। চন্দ্রকোনা রোডের বাসস্ট্যান্ডে বাসে চড়ে সওয়া একঘন্টায় সে কলেজে পৌছে গেল। কলেজের গেটে প্রবেশ করার সাথে সাথে অনেকে 'শুভ জন্মদিন' অনেকে 'হ্যাপি বার্থডে' জানালো । তবে কি সত্যি সত্যি আজ তার জন্মদিন ? কর্মব্যস্ততার ভিড়ে এই স্মৃতিটুকুও তার হারিয়ে গেছে। এইসব ভাবতে ভাবতে কখন যে সে স্টাফ রুমে পৌছে গেছে তার খেয়াল নেই। সহকর্মীরা তাকে একে একে উপহারের ডালি দিয়ে এক আড়ম্বরপূর্ণ জন্মদিন পালন করল। তবু সুদীপের মাতৃহারা মন যেন কিছু একটার বড়ই অভাব বোধ করছিল। তার ব্যথিত হৃদয় মায়ের জন্য হাহাকার করছিল । 

    এমন সময় দরজার সামনে এসে দাড়ালো অতি সাধারন পুরানো বস্ত্র পরিহিতা এক বৃদ্ধা । তাকে দেখে তাচ্ছিল্যের স্বরে কেউ কেউ বলে উঠলো,"সকাল সকাল যত ভিখিরির আবির্ভাব।" 

    সুদীপ ওদের থামিয়ে দিয়ে ওই আগন্তুক বৃদ্ধা মানুষটিকে ভেতরে ডেকে নিয়ে এলো।

     বৃদ্ধা বললো,"আমি ভিখারি নই বাবা, আমার ছেলে এই কলেজেই পড়ে। শুনলাম আজ তোমার জন্মদিন তাই এখানে চলে এলাম। তোমার জন্য আমার হাতের তৈরি সামান্য পায়েশ নিয়ে এসেছি। এটা খেলে আমি খুব খুশি হব। তুমি দীর্ঘজীবী হও, আরো বড় হও। আমি প্রাণ ভরে তোমায় আশীর্বাদ করছি ।"




No comments:

Post a Comment