গল্প তৈরীর কারিগর
এক পত্রিকা সম্পাদক ঘোষণা করলেন, অমুক দিন প্রাতঃভ্রমণ পার্কে ভোরে দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে কূয়াশা ঢাকা একটা ছায়ামূর্তি দেখতে পাওয়া যাবে। এই ছায়ামূর্তি নিয়ে একটা রহস্য অণুগল্প প্রতিযোগিতার জন্য লেখা আহ্বান করা হচ্ছে।
গল্প লেখার নেশায় সেদিন আমিও ভোর হবার আগেই সেই প্রাতঃভ্রমণ পার্কে হাজির। ভোরের আলো ফোটেনি তখনও। দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে কূয়াশা ভেদ করে একটা ছায়ামূর্তি ভেসে উঠছে। প্রচণ্ড আগ্রহ আর উত্তজনা নিয়ে ছায়ামূর্তির মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছি। পেছনে হিসহিস হুমহুম আওয়াজ। ফিরে তাকালাম। গিজগিজ করছে মানুষ। বিভিন্ন চেহারার বিভিন্ন বয়সের মহিলাপুরুষ। গল্প লেখার ঝোঁকে বা আহ্লাদে জড়ো হয়েছে সবাই । শ’দুয়েক মানুষের একটা জটলা। ভোরের প্রাতঃভ্রমণ পার্ক গমগম করছে গল্প তৈরীর মৌতাতে। সকলেই উঁকিঝুকি মারছে, ‘দেখি, দেখি ছায়ামূর্তিটা। একটু দেখতে দিন না। আরে মাথাটা সরান না’
সকলেই উত্তেজিত। সকলেই রোমাঞ্চিত। দেখতে দেখতে কূয়াশা কেটে আকাশ পরিষ্কার হয়ে এল। সূর্য উঠল ঝকঝকিয়ে।
সকালের আলো ফুটতেই ছায়ামূর্তি উধাও। আস্তে আস্তে মানুষজনও ফাঁকা। সবাই চলে গেছে। এখন একটা বেঞ্চে বসে গল্পের প্লটটা একটু ঝালিয়ে নেব ভাবছি। পেছনে বেঞ্চে দেখি তখনও একজন মাঝবয়সী গল্পকার ঝিম মেরে বসে আছে। ঘুম জড়ান শুকনো মুখ, উদাস চাউনি, ঢিলেঢালা পাজামাপাঞ্জাবী, গায়ে একটা বড় চাদর, রোগা আর ফর্সা। পাশে বসতেই ভারি এবং ভরাট গলায় জিজ্ঞেস করলেন,
- গল্পের খোঁজে ?
- হ্যাঁ । আপনি ?
- আমিও। কাল রাত থেকে জেগে বসে আছি ।
- কেন ?
- ওই ছায়ামূর্তিটার রহস্য জানতে ।
- জানতে পারলেন ?
- হ্যাঁ পেরেছি ।
- রহস্যটা কী মশাই ?
- ওটা কোন ছায়ামূর্তিই নয় ।
- তাহলে, তাহলে ওটা কী ?
- ওটা, ওটা আমাদের সম্পাদক, গল্প তৈরীর কারিগর…
No comments:
Post a Comment