আবর্তন
শুনেছিলাম, জন্মের পর মানুষের যে যাত্রা,
তা গর্ভকালীন জ্ঞান থেকে ক্রমশ দূরে নিয়ে যায় মানুষকে।
জন্মপূর্বের মানুষ মাতৃগর্ভে পূর্ণজ্ঞান সলিলের
অবাক-আশ্রয়ের থেকে প্রথম বিচ্ছিন্ন হয়, জন্মসময়ে,
ছিন্ন নাড়ীর বিরহ পুষ্পভারাক্রান্ত লোক, ক্রমশ মানুষ হয়ে ওঠে।
তারপর যত বয়স বাড়ে, তত এই দূরত্ব দীর্ঘায়িত হয়।
কেন্দ্র থেকে নির্মম দূরত্বে চলতে থাকে তার যাপনমালা।
তারপর এক পা আলোয়, এক পা আঁধারে
কখনো ফাগুণ-লোভে, কখনো মৃত্যুর মত মর্মহীন অধিকারস্পৃহায়
হারিয়ে যায় সতত পরিচিত শৈশবালোক!
তারপর, কোন এক সৌভাগ্যদিনে
সব হারানো সর্বনাশের আমন্ত্রণে
পূর্বজন্মের মত মনে আসে চিলেকোঠার হারিয়ে যাওয়া ঘর।
ঘরের বাইরের একফালি মনখারাপি কার্নিশ।
অন্ধ করে দেওয়া উজ্জ্বলতা, ফুর্তির ফোয়ারা
আর বহুতলীয় মেধাযুদ্ধ ভেদ করে
ছেলেবেলার নিশিডাকের মত জেগে ওঠে সে।
পাগলের মত, ভিখারীর মত, অনূঢ়া বালিকার মত
ছুটে যেতে হয় সে মুহূর্তে, পুনরায়।
রিক্ত, নিঃস্ব, শূণ্য হয়ে
শূণ্যতর মাতৃগর্ভসলিলের আদিম পূর্ণতায় ডুব দিতে।
No comments:
Post a Comment