Thursday, May 30, 2024

কবিতা- তুহিন কুমার চন্দ

রবীন্দ্রনাথ, রবীন্দ্রনাথ হতে চেয়েছিল

একদিন এইখানে দাঁড়িয়ে দেখেছিলে কোপাইয়ের ঢেউ,
বুঝতে পারেনি কেউ মেঠো পথে হারিয়ে গেছে হাতের খঞ্জনী।
এখন শুধু ধ্বনি শুনি শেয়াল শকুনের।
মহাপ্রস্থানে গিয়েছিলে তুমি ।

ভাঙা কার্লভাটের ওপর বসে বাদাম খাচ্ছিল রবীন্দ্রনাথ, 
পাশে রাখা খালি প্লাষ্টিকের বোতলে কিছু জল আর ছেঁড়া বস্তাটায় কুড়িয়ে আনা কিছু প্লাষ্টিকের অন্নসংস্থান ।
একরাশ অবিন্যস্ত চুলে বাতাসের লুকোচুরি খেলা,
কোপাইয়ের হাটে বড় আলখেল্লা বিকোয় খুব অল্প দামে।
রবীন্দ্রনাথ, রবীন্দ্রনাথ হতে চেয়েছিল,
কিন্তু রবীন্দ্রনাথ, রবীন্দ্রনাথ হতে পারেনি কোনদিন।

বৃষ্টি হয়ে গেছে কিছুক্ষণ আগে,
ছাতিম গাছের গা বেয়ে লতার মতো জল স্পর্শ করছে উপাসনা গৃহ, 
ভুবনডাঙার পাশ দিয়ে কোপাইয়ের জরাজীর্ন ঢেউ তরতর করে বয়ে যাচ্ছে খোয়াইয়ের হাট ছুঁয়ে,
যারা ঘেরা দেয়ালটা দিনকয় আগে ভেঙেছিল,
তাদের চিনেছিল রবীন্দ্রনাথ, 
যারা আম্রকুঞ্জে মেরেছিল ঢিল
তাদেরকেও চিনেছিল রবীন্দ্রনাথ। 

শুধু রক্তহীন বিপ্লবের জন্য
হাতের কাছে রাখা ভাঙা ভাতের থালায় কোথাও কুড়িয়ে পাওয়া শান্তিনিকেতনের একটা ছবি রেখে ওদিকে তাকাতেই-
সটান সামনে দাঁড়িয়ে গান্ধী,  
হাত থেকে খাবার রেখে বলছিল তাড়াতাড়ি খেয়ে নে,
আজ যে খোয়াইয়ের হাট!

চোখের সামনে থেকে সরে যায় রোদ
বর্ণবোধ বুঝতে না চাইলেও
এখনো রবীন্দ্রনাথ গান্ধীর হাত ধরে 
হেঁটে যায় কোপাইয়ের পাড়ে।
চোখের সামনে থেকে কোপাইয়ের ঢেউ সরে যায় মেঠো পথ ধরে, 
যেখানে হারিয়ে গেছে হাতের খঞ্জনী
যেখানে হারিয়ে গেছে কুড়ানো বাউলের একতারায় বাঁধা মেঠো সুর, 
সুরে সুরে আজও আছে রবীন্দ্রনাথ, 
তোমাকে ভুলে যাওয়া কি এতই সহজ!

1 comment:

  1. অচিনপাখি পরিবারের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই

    ReplyDelete