হৃদয় জুড়েই রবীন্দ্রনাথ
রোজ ভোরে এক দোয়েল এসে যায় শুনিয়েই গান
পাখির গানে ঘুম ভেঙে প্রাণ আনন্দে আনচান ।
ও পাখি, তুই কোথায় পেলি এমন মধুর সুর ?
বললে পাখি, কবির গানেই সবকিছু ভরপুর ।
তারপরে যেই সূর্য ওঠে, আকাশ লালে লাল
খুশির ছোঁয়ায় কাঁপতে থাকে কৃষ্ণচূড়ার ডাল ।
যেই বলি, এই, কোথায় পেলি এতো রঙের মেলা ?
বললে ওরা, কবির ছবির মাঝেই খুশির খেলা ।
তারপরে যাই ফুলের কাছে, ফুল হাসে খিলখিল
সেই হাসিতেই আকাশ -বাতাস সব করে ঝিলমিল ।
যেই বলি, এই দুষ্টু তোদের কীসের এতো হাসি ?
বললে ওরা, কবির লেখা ভীষণ ভালোবাসি ।
একটু বাদেই দুপুর নামে উদাস আপনভোলা
মনের মোড়ে হাঁক দিয়ে যায় ক্লান্ত ফেরিওলা ।
যেই বলি, ভাই, কোথায় পেলে এমন মধুর ডাক ?
বুকের ভেতর দুলতে থাকে 'পঁচিশে বৈশাখ ' ।
তারপরে যেই সূর্য ডোবে, দিন বলে যাই ' টু-কি '
মেঘের বুকে জমতে থাকে রঙের আঁকিবুকি ।
যেই বলি, মেঘ, কেমন করেই ছুটির ছবি আঁকো ?
ফুল-মালা-ধূপ-চন্দনেতেই হাঁফায় জোড়াসাঁকো ।
একটু বাদেই চাঁদ ওঠে যেই, যেই ফোঁটে সব তারা
জোৎস্না-জাজিম জগৎ জুড়ে সবাই আত্মহারা ।
যেই বলি, চাঁদ, কীসের এত খুশির জোয়ার মনে ?
বিশ্বকবি হাসেন সুখের শান্তিনিকেতনে ।
গভীর রাতে ঘাসের বুকে শিশির ঝরে 'টুপ'
মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে দেখি রাতের রঙিন রূপ ।
বুকের মাঝে বাজনা বাজে খুশির তাকুড়-নাকুড়
হৃদয় জুড়েই দাঁড়িয়ে থাকেন 'রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর '।
No comments:
Post a Comment